সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া হত্যা
১০ দিনের মাথায় মূল রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার মূল আসামি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তার (২৩) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ, গোপন তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ইন্সপেক্টর (এডমিন) মিন্টু বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ।
তিনি আরও জানান, তদন্তের শুরুতেই নিহতের সাবেক স্বামী ইখতিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হলেও তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্তের নতুন দিক উন্মোচিত হয়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, লোকেশন বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত হত্যাকারী হিসেবে নিহতের পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক (২৫)-কে শনাক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে সাদিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে গত ১২ জুলাই রাতে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে রাজ্জাক শ্বাসরোধ করে সাদিয়াকে হত্যা করে এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ২১ জুলাই ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে মূল আসামি আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মাথার ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং বিক্রিকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
পিবিআই ইন্সপেক্টর (এডমিন) মিন্টু বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য এবং পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
(এসডি/এসপি/জুলাই ২৩, ২০২৬)
