স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে রানার্স-আপ হওয়ার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। জাতীয় দলকে বিদায় জানানো এই তারকাকে সম্মান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৫৬ বছর বয়সী ফিফা প্রধান লেখেন, ‘একটি অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য নিকোলাস ওতামেন্দি, তোমাকে অভিনন্দন। ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ী, ২০২৬ সালের ফাইনালিস্ট এবং ১৩৯টি ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অন্যতম সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় তুমি।
তোমার নেতৃত্ব ও দৃঢ় সংকল্প অ্যালবিসেলেস্তেদের জন্য এক অনন্য ও ঐতিহাসিক যুগ গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে।’

ইনফান্তিনো আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের অবিস্মরণীয় সব মুহূর্ত উপহার দেওয়া এবং অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।
জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য তোমার অনেক সাফল্য কামনা করি।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরাজয়ের পর এবং তার ক্লাব রিভার প্লেটের হয়ে মাঠে নামার আগে ওতামেন্দি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলকে বিদায় জানান (যদিও টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি জাতীয় দলে আর না ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন)।

বিদায়লগ্নে নিজের সেরা মুহূর্তগুলোর ভিডিও সংযোগ করে ইনস্টাগ্রামে ওতামেন্দি লেখেন, ‘আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন কথাগুলো লিখতে হচ্ছে। খুব ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সি পরার স্বপ্ন দেখতাম, আর ফুটবল আমাকে দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার ছিল এটি। লক্ষ লক্ষ আর্জেন্টাইনের অনুভূতির মর্যাদা দিয়ে আত্মনিবেদন, গর্ব ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে আমি এই জার্সির সম্মান রক্ষা করেছি।’

নিজের শেষ ম্যাচটি নিয়ে তিনি লেখেন, ‘ভাগ্যই নির্ধারণ করে দিয়েছিল যে আমার শেষ ম্যাচটি হবে একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল। ফলাফলটি আমরা যেমনটি চেয়েছিলাম তেমন হয়নি, তবে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত এই দল তাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে; এই বিশ্বাস নিয়ে আমি মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার যে তৃপ্তি, তা নিয়ে আমি যাচ্ছি। জার্সির প্রতি আমার আত্মত্যাগে কখনোই কোনো কমতি ছিল না।’

তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্দেশ্যে করে ভেলেজ সার্সফিল্ডের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে একটি কথা বলতে চাই; বিশ্বাস কখনো হারাবে না। এমন কিছু বাধা আসবে যা অতিক্রম করা অসম্ভব মনে হতে পারে, কিন্তু এই জার্সি সবসময় তাদেরকে পুরস্কৃত করে যারা বিনয়, ত্যাগ ও ভালোবাসা দিয়ে এর সুরক্ষা দেয়। মাথা উঁচু রাখো, লড়াই চালিয়ে যাও এবং একটি হারকে তোমাদের আশা কেড়ে নিতে দিও না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের ইতিহাসের পরবর্তী অধ্যায় তোমাদের হাতেই রচিত হবে।’

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের শর্তহীন ভালোবাসা, প্রতিটি পতাকা ও গানের জন্য ধন্যবাদ। যখনই জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠত, আমরা কেবল ১১ জন খেলোয়াড় ছিলাম না, বরং কোটি মানুষ একই স্বপ্ন রক্ষা করার জন্য মাঠে লড়াই করতাম; আপনারা আমাদের সেই অনুভূতি দিয়েছেন।’

পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওতামেন্দি নিজের দীর্ঘ বার্তার ইতি টানেন এভাবে, ‘দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার অসীম গর্ব নিয়ে আমি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানাচ্ছি। কারণ ট্রফি ও শিরোপা ইতিহাসে থেকে যায়, কিন্তু এই পতাকার প্রতি ভালোবাসা সারাজীবন থেকে যায়। ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা, আমার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য এবং বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর জার্সিটি গায়ে জড়াতে দেওয়ার জন্য। বিদায়, জাতীয় দল।’

(ওএস/এএস/জুলাই ২৮, ২০২৬)