রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন ১৭ বিজিবি কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মালিকবিহীন ৩১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন ১৭ বিজিবি এর প্রশিক্ষণ মাঠে ‘আটককৃত মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন এর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মাসুদুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ লায়েকুজ্জামান, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ-সাতক্ষীরার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শিশির চন্দ্র দাস, পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ মশিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার-ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি চিফ পেটি অফিসার শেখ মোঃ জাকারিয়া এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।

উল্লেখ্য, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, দেবহাটা এবং কালীগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদ্যমান বিওপিসমূহ এবং ব্যাটালিয়ন সদর কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জন আসামীসহ ৫১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৭৯৭ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত মালামালের মধ্যে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রকার মদ ৪০৬ বোতল, ফেনসিডিল ও সমগোত্রীয় নেশাজাতীয় মাদক ১৫০৭৮ বোতল, ইয়াবা ১৮৬৫৪ পিস, ভারতীয় পাতার বিড়ি ৭৫৭৬৬ প্যাকেট, গাঁজা ৩.৮১ কেজি, বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ঔষধ ২১৭৬২৫৭ পিস, সুখি বড়ি ১৪৭০ পাতা, বিভিন্ন প্রকার মাদক জাতীয় ট্যাবলেট ১৫৭৪৬ পিস, হেরোইন ০১ কেজি ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও অতি মূল্যবান মাদকের মধ্যে ছিল, এলএসডি (১০০ এমএল) ০৮ বোতল, এলএসডি (৫০ এমএল) ০৬ বোতল, ক্রিস্টাল মেথ আইস/আইস মেথ ২.৪০০ কেজি।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিজিবির প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

প্রধান অতিথি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং নিজ হাতে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উপস্থিত বক্তিগণ সকলেই মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় হস্তে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
(আরকে/এএস/জুলাই ২৮, ২০২৬)