ক্লাসরুমে শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় দোষী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে স্কুল কর্তৃপক্ষ
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী ও ক্লাস ক্যাপ্টেন আতিক ইসলামের প্রহারে অভিযুক্ত সহপাঠী চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে আহত শিক্ষার্থী আতিকের পরিবারের পক্ষ থেকেও দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বর আহত শিক্ষার্থী আতিক দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখন জ্ঞান ফিরেছে আতিকের। তবে তার মাথা ও গলায় গুরুত্বর জখম হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তব্যরত চিকিৎসক।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম জানায়, আমরা শিশুটিকে মঙ্গলবার রাতে দেখতে গিয়েছিলাম।চিকিৎসকের কাছে খোঁজ-খবর নিয়েছি
তার মাথা ও গলায় গুরুত্বর জখম হয়েছে। শ্বাস কষ্ট জনিত সমস্যা থাকায় তার দেরিতে জ্ঞান ফিরেছে।আমরা প্রতিনিধি শিশুটির খোঁজ-খবর নিচ্ছি। সে এখন ভালো আছে। আমরা আগামিকাল (বৃহস্পতিবার) শিক্ষকিদের মিটিং আহবান করেছি। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও ডাকা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ,আহত শিক্ষার্থী আতিকের কোন দোষ ছিলোনা। ক্লাসে হৈ-হুল্লোর করায় ক্লাস টিচার নারায়ণীর ক্লাসে খাতা দেখতে অসুবিধা হওয়ায় ক্লাস ক্যাপ্টেন আতিককে হৈ-হুল্লোর ও বিশৃঙ্খলাকারিদের নাম লিখে দিতে বলেছিলেন। আতিক দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু স্কুল বিরতির সময় শিক্ষকের কাছে নাম লিখে দেওয়ার অজুহাতে আতিককে প্রহার করেছে তার সহপাঠীরা। ঘটনা জানার পর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহত শিক্ষার্থী আতিককে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ( ২৮ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুর জিলা স্কুল এ ৫ম শ্রেণির দিবা শিফটের 'ঘ' শাখায় সহপাঠীর প্রহারে গুরুত্বর আহত হয়ে সঙ্গা হারায় শিক্ষার্থী ও ক্লাস ক্যাপ্টেন আতিক ইসলাম। আতিক মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
আহত আতিক ইসলামের ফুপা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শামীম আজাদ চৌধুরী জানান, আতিক দিনাজপুর জিলা স্কুল এ ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। শিফট- দিবা, শাখা- ঘ রোল ১২ সে ক্লাস ক্যাপ্টেইন। বর্তমানে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারী বিভাগ রুম নং- ১ বেড নং--০৫ ৫ম তলায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকেপ্রহার করেছে সাফায়েত ওহি (রোল:৩৭), নাসিফ ফারদিন খান, (রোল:৮), মিরান (রোল :২৬ ),বর্ণ (রোল :১০)।
আহত আতিকের পিতা মোহাইমিনুল ইসলাম নিজেও অন্য একটি স্কুলের শিক্ষক। তাদের বাড়ি মাসিমপুরে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী আতিকের পরিবারের পক্ষ থেকে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
(এসএস/এসপি/জুলাই ২৯, ২০২৬)
