রিয়াজুল রিয়াজ,  বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে মাদকের টাকা না দেওয়ায় নিজপূত্র রাহিম শেখ (৩৫) এর হাতে শামেলা আক্তার (৫৫) নামে এক গর্ভধারিণী মা নিহত হওয়ার ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গী এলাকা মৃত আকবর শেখের বাড়ীতে এ মর্মান্তিক হত্যার ঘটনাটি ঘটে। মৃত আকবর শেখ হত্যার শিকার মায়ের স্বামী ও এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক পুত্রের বাবা।

এ হত্যার ঘটনার পরোক্ষণেই ঘাতক ছেলে রাহিম শেখ পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশের ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এর পাশাপাশি কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্তের নেতৃত্বে নিহত মায়ের হত্যায় জড়িত ছেলেকে ধরতে অভিযানে নামে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ফরিদপুরের সালথা থানার অন্তর্গত গট্টি ইউনিয়ন এর লহর পাড় গ্রাম থেকে মায়ের হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুত্র রাহিম শেখকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় কোতয়ালি থানা পুলিশের ওই অভিযানিক দল।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নিজ মায়ের ঘাতক রাহিম শেখের গ্রেপ্তারের খরবটি নিশ্চিত করেন কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে আসেন রাহিম শেখ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদক কেনার জন্য মায়ের কাছে টাকা দাবি করলে মা শামেলা আক্তার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বা তাঁর কাছে টাকা নেই বলে জানান। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে রাহিম শেখ ঘরে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে মায়ের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মা শামেলা আক্তারের মৃত্যু
হয়।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় অভিযুক্ত বিনা বাধায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে পাশের বাড়ির এক নারী প্রতিবেশী ছাদে কাপড় শুকাতে গিয়ে উঠানের টিউবওয়েলের মায়ের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশকে খরব দেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার এসআই আব্দুল হক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত কার্যক্রম শুরু করেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত রাহিম শেখের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

(আরআর/এএস/জুলাই ৩১, ২০২৬)