‘ম্যারাডোনার গোলও ফকল্যান্ডস ফিরিয়ে দেয়নি’
স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলের উন্মাদনা আর ভূ-রাজনীতিকে এক পাত্রে না মেশানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
২০২৬ বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের পতাকা উঁচিয়ে উদযাপন ও বিতর্কিত স্লোগান দেওয়াকে স্পষ্ট ভাষায় ‘অপরিণামদর্শী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের পরিষ্কার বার্তা, ফুটবল মাঠের আবেগ দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়; ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার ছিল এবং তা কেবল কূটনীতির মাধ্যমেই ফেরত আনা হবে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে পপসম্রাট এলভিস প্রিসলির প্রসঙ্গ টানেন মিলেই।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রিসলি সোজাসাপ্টা জানিয়েছিলেন, তিনি বিনোদন জগতের মানুষ; রাজনীতি তার কাজ নয়। আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট যোগ করেন, ‘তেল আর জল যেমন মেলে না, খেলা আর রাজনীতিও তেমনই।
ফুটবল স্রেফ একটা খেলা, এটাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখাই শ্রেয়।’
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সংযমী অবস্থানের প্রশংসা করে মিলেই স্পষ্ট করেন খেলোয়াড় ও রাষ্ট্র পরিচালকদের তফাত।
তার মতে, ‘মাঠের জয়ের উত্তেজনায় খেলোয়াড়রা আবেগের বশে অনেক কিছু করে ফেলতে পারে। কিন্তু একজন রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষেত্রে সেই ভুল ক্ষমার অযোগ্য; কারণ তার একটি মন্তব্য দুই দেশের যুদ্ধ ঘোষণার কারণ হতে পারে।’
বিতর্কের আগুন আরও বাড়িয়ে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র প্রসঙ্গ তোলেন মিলেই। ঠান্ডা মাথায় বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আবেগ সামলাতে হবে। ম্যারাডোনার ওই ঐতিহাসিক দুটি গোলের একটিও কিন্তু ফকল্যান্ডসকে আমাদের হাতে ফিরিয়ে দেয়নি।’
নিজের প্রশাসনের কূটনৈতিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মিলেই দাবি করেন, তার সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বলিষ্ঠ কূটনীতির কারণেই জাতিসংঘ আজ যুক্তরাজ্যকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছে। ফকল্যান্ডস প্রশ্নে আমরা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, চীন, এমনকি যুক্তরাজ্যের একটি বড় অংশের জনসমর্থন আদায় করতে পেরেছি।’
এর আগেও ড্রেসিংরুমে ফুটবলারদের ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মিলেই। খেলোয়াড়দের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফুটবলাররা কূটনীতির কেউ নন। ভালো খবর এটাই যে, এই অপরিণামদর্শী মন্তব্যগুলো এমন কিছু অপ্রাসঙ্গিক মানুষের কাছ থেকে এসেছে, যাদের রাজনৈতিক কথার কোনো গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মহলে নেই। ফুটবল ফুটবলই, এটিকে রাজনীতির ময়দান বানানোর ভুল দ্বিতীয়বার করা উচিত নয়।’
(ওএস/এএস/আগস্ট ০১, ২০২৬)
