বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলায় পাটের বাম্পার ফলনে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন এই অঞ্চলের কৃষক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রণোদনার ফলে উৎপাদন ভালো হওয়ায় একেবারেই কৃষকেরা স্বস্তিতে রয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি মৌসুমে পাট বিক্রি করে কৃষকের ঘরে প্রায় ৫১ কোটি টাকার অর্থ আসতে পারে। এবার উল্লেখযোগ্য জাতগুলো সমুহমহারাষ্ট্র, রবি-১, বঙ্গবীর, সম্রাট এবং দেশীয় জাতের পাট চাষ করেছেন কৃষকেরা। ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার ২০০ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা সেই সাথে পাটগুলো আটিতে বেঁধে জলে জাগ দেয়া ও শুকানো।‌ বরাবরের মতো এবারও তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পাটের চাষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ আরো জানায়, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় গড়ে ৯ থেকে ১০ মণ হারে পাটের ফলন পাওয়া যাচ্ছে। সরকারিভাবে প্রায় ২০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ, সার ও কীটনাশকের পাশাপাশি কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাকুল্লা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কৃষক সোলাইমান ইসলাম বলেন, সরকারের দেওয়া বীজ ও সার পেয়ে উপকৃত হয়েছি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে খরচ কম লাভও বেশি।

তেকানী ইউনিয়নের কৃষক মেহেরুল ইসলাম বলেন, এ বছর চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এবার পাট ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। পাটখড়ি দিয়ে প্রায় তিন মাসের জ্বালানির চাহিদা মেটে যাবে বলে জানিয়েছেন এই কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, অনুকূল আবহাওয়া কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সময়মতো কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার ফলে এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদনের মান আরও বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা দেশে যেমন বাড়ছে, তেমনি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদন অব্যাহত থাকলে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পেলে পাট আবারও এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

(বিএস/এসপি/আগস্ট ০১, ২০২৬)