রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুৎ এর চোরাই লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হারাধন দাস (৪৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের একটু আগে কানাইপুরের রনকাইল গ্রামে জিয়া স্টোর নামে একটি বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত চোরাই লাইনের তার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হারাধনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় জিয়া স্টোরের মালিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গ্রাম্যদলের মোড়ল প্রকৃতির প্রভাবশালী একটি মহল প্রধাসনকে না জানিয়ে টাকা পয়সা লেনদেনের মাধ্যমে এ ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারকে পুলিশকে না জানানো ও এ নিয়ে কোনো অভিযোগ না দেওয়ার জন্য ভরভীতি দেখায় এবং টাকা পয়সার মাধ্যমে সমাধান করতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরে স্থানীয়দের মধ্য থেকে কেউ ফরিদপুর কোতয়ালি থানা পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত হারাধনের লাশ উদ্ধারের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে অনেক সময় কাটিয়েও কোনো এক অজানা কারণে থানা পুলিশের ওই দলটি হারাধনের লাশটি উদ্ধার না করেই থানায় ফিরে আসেন। এ বিষয়ে থানা পুলিশের ভাষ্য, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তারা নিহত হারাধন দাসের লাশ তাঁর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে ফিরে এসেছেন।

কিন্তু স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই পুলিশের এ বক্তব্যের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনাটি পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালী ওই মহলের মাধ্যমে হারাধনের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও টাকা পয়সা লেনদেন করে মীমাংসা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে বাধ্য করা হয়েছে কোনো অভিযোগ না দিতে। এসময় উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয়রা পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, 'আপনিই বলুন- হারাধন দাস হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় তাঁকে কেনো দাহ করতে দেয়নি পুলিশ। কেনো থানা পুলিশ হারাধনের দাসের লাশকে পরিবার ও স্থানীয়দের দ্বারা মাটি চাপা দিয়ে রেখে গেছে'?

স্থানীয় সূত্রে আরও জনা যায়,' ইব্রাহিম হোসেন জিয়া নামের এক ব্যবসায়ী স্থানীয় রনকাইল গ্রামের পুরাতন রনকাইল বাজারে 'জিয়া স্টোর' নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ লাইনটির বানিজ্যক বিল এড়াতে পল্লী বিদ্যুৎ এর বানিজ্যিক সংযোগ না নিয়ে নিজের বাড়ী থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নাইন টেনে জিয়া স্টোরে সংযোগ দিয়ে ব্যবহার করে আসছিলেন। ওই অবৈধ লাইনের তার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা হারাধন দাস (৪৫) এর মৃত্যু ঘটে। এ অবৈধ সংযোগের সাথে পল্লী বিদ্যুৎ এর কয়েকজন মাঠ পর্যায়ের কর্মচারী-কর্মকর্তা জড়িত আছেন বলে এসময় অভিযোগ উঠে। তবে, ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোন কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এসবের সাথে জড়িত, প্রাথমিক ভাবে তাদের নাম জানা সম্ভব হয়নি।

এলাকায় চোরাই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিষয়ে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে তদন্তসহ এসব বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে উত্তরাধিকার ৭১ নিউজের সাথে ফোনালাপে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার এস.এম. নাসির উদ্দীন জানান, 'আমি রনকাইলের দুর্ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। আমাদের কোনো স্টাফের পল্লী বিদ্যুৎ লাইনের অবৈধ সংযোগের সাথে জড়িত থাকার কোনো সুযোগ নেই। সেই সাথে কারো বাসা থেকে সাইট লাইন টেনে বানিজ্যিকভাবে ব্যবহারেরও আইনগত কোনো বৈধতা নেই। আর এ বিষয়টি দূর্ঘটনা ঘটার পরে আমি অবগত হয়েছি।

নাসির উদ্দীন আরও জানান, 'এ বিষয়ে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ইতিমধ্যে একাধিক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে'।

রনকাইল গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হারাধন দাস (৪৫) এর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি দল। তবে, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু বরণ করা হারাধন দাস (৪৫) এর লাশটি ঘটনাস্থল থেকেই নিহতের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে'।

(আরআর/এসপি/আগস্ট ০১, ২০২৬)