সাভারে ট্যানারি শিল্প এখন মরণফাঁদ : সবুজ আন্দোলন
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্পের কলকারখানা গুলোকে সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হয়। মূলত পরিবেশ দূষণ ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য জায়গা বরাদ্দ বন্দোবস্ত করা হলেও বর্তমান চিত্রটি হয়েছে বিপরীতমুখী। হাজারীবাগের শিল্প কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি বুড়িগঙ্গা নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার পর বর্তমানে সাভারের বংশী নদীর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। যা হয়ে উঠেছে সাভারের জনগণের জন্য মরণ ফাঁদ।
আজ রবিবার সকালে সাভারের এম কে টাওয়ারে পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলন ঢাকা জেলা উত্তরের "পরিচিতি সভা ও পরিবেশ দূষণ রোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা"র আয়োজন করা হয়।
সবুজ আন্দোলন ঢাকা উত্তর জেলার সভাপতি আশিফুল ইসলাম জনির সভাপতিত্বে জেলার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিন্টু সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ বাপ্পি সরদার।
উদ্বোধক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাভার সিটিজেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, প্রধান আলোচক ছিলেন পরিবেশকর্মী ও সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালাউদ্দিন খান নঈম।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্য বলেন, সাভার, আশুলিয়া,ধামরাই , কেরানীগঞ্জের একাংশ নিয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গঠিত যার প্রত্যেকটি এলাকা দখল ও দূষণের জর্জরিত। বিশেষ করে সাভারের ট্যানারি শিল্প এখন জনগণের মরণ ফাঁদ হিসেবে প্রতিমান হয়েছে। শিল্প কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ায় জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়েছে। ২০ বছরে সবুজায়ন কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি। যা আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য পরিকল্পিত নগরায়ন দরকার। বর্তমান সময়ে আরো বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্যানারি শিল্পের বর্জ্য শোধন না করে সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে যার ফলে প্রবাহিত প্রাণী বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগব্যাধি, জলজ প্রাণী ধ্বংস করছে। পানি শোধনের ব্যবস্থার কথা বলা হলেও সরকারি তদারকির অভাবে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এছাড়াও অবৈধ ইটভাটা, সীসা কারখানা, টায়ার পুরানো বর্জ্য, ফ্যাক্টরি বর্জ্য জীববৈচিত্রকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করছে। পানি শোধনের জন্য সিইটিপি বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব হলো প্রশাসন রয়েছে নিশ্চুপ। আগামী সাত দিনের মধ্যে অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটা বন্ধ না হলে প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান আলোচক তার বক্তব্য বলেন, আমরা দীর্ঘদিন সাভার উপজেলাকে সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি কিন্তু রাজনীতিবিদদের অসহযোগিতার ফলে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি আজমল আমিন টুটুল, ল্যাব জোন হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোটারিয়ান মোঃ ওয়াকিলুর রহমান, সবুজ আন্দোলন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সেঁজুতি হোসাইন। নবগঠিত কমিটির সকল সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করানোর পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয় রয়েছে জনসচেতনতা তৈরিতে বিশেষ নির্দেশনা নির্দেশনা প্রদান করা হয়। জেলা কমিটির সহ-সভাপতি রানু সুলতানা, মোঃ লিয়াকত আলী সরকার, বিএম ফররুখ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী, আব্দুল্লাহ আল ইমরান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
(পিআর/এসপি/আগস্ট ০২, ২০২৬)
