স্পোর্টস ডেস্ক : চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বুধবার হাজারো ভক্তের উন্মাদনা আর ক্লাবের ঐতিহাসিক ট্রফিগুলোর উপস্থিতিতে নতুন সমর্থকদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানালেন কেপ ভার্দের তারকা গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। 

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, উরুগুয়ে এবং লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন করে আলোচনায় আসা ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোলো-কোলোর নতুন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

মাঠে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্টেডিয়ামে। উদযাপনের আবহ দেখে মনে হচ্ছিল, কোপা লিবের্তাদোরেসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলছে।

অভিষেকের আনন্দ প্রকাশ করে ২৯ নম্বর জার্সি পরা ভোজিনিয়া বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চিলির সর্ববৃহৎ ক্লাবের সব সমর্থককে তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
এগিয়ে চলো, কোলো-কোলো!’

আগামী ১৬ আগস্ট নিজের নতুন ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারেন তিনি।

বয়স ৪০ পেরোলেও ভোজিনিয়াকে দলে নেওয়া নিয়ে চিলিতে তৈরি হয়েছে তুমুল উন্মাদনা।
গত রবিবার গভীর রাতে সান্তিয়াগোতে পৌঁছালে বিমানবন্দরে শত শত সমর্থক পতাকা, গান ও ক্লাবের জার্সি উঁচিয়ে তাকে বরণ করে নেন।

এমনকি ২০২৪ সালে বার্সেলোনা, জুভেন্টাস ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাবে খেলা চিলির ফুটবল কিংবদন্তি আর্তুরো ভিদালের প্রত্যাবর্তনের সময় যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, ভোজিনিয়ার অভ্যর্থনা ছিল তার চেয়েও বেশি উষ্ণ।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আলেক্স রেসবার্গ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্বকাপে ভোজিনিয়ার খেলা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার সেভগুলো ছিল অসাধারণ। তাকে কোলো-কোলোতে পাওয়া সত্যিই একটি স্বপ্নের মতো।’

জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস, ফুটবল বিশ্বে যিনি ‘ভোজিনিয়া’ নামে পরিচিত, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান। এরপর নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এর রাউন্ডে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে কেপ ভার্দেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।

তবে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় আফ্রিকার দেশটি।

উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে রাতারাতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান ভোজিনিয়া। এর প্রভাব পড়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ হাজার। টুর্নামেন্ট শেষে সেই সংখ্যা একলাফে ৩ কোটি ছাড়িয়ে যায়।
(ওএস/এএস/আগস্ট ০৬, ২০২৬)