রাজারহাটে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা, হাড়ি-পাতিলের বাসা উদ্বোধন করলেন ইউএনও
পিএম সৈকত, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাখিদের জন্য অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে মাটির হাড়ি-পাতিল দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী পাখির বাসার উদ্বোধন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম। এ ধরনের কার্যক্রম জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মানুষকে পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় আরও সচেতন করবে বলে স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা মনে করেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। তারা হাতে তৈরি মাটির হাড়ি-পাতিল দিয়ে নির্মিত পাখির বাসা বহন করে প্রতীকী অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জয়ন্তী রানী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম হাবিবুর রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, প্রেসক্লাব রাজারহাটের সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়বায়ক আনিছুর রহমান লিটন এবং আরটিভির সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা থাকায় সারা বছর দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখির আনাগোনা থাকে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে অতিথি পাখির উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। তবে উপযুক্ত বাসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে এসব পাখি দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে না। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম উপজেলা পরিষদ এলাকাকে পাখিদের জন্য নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তারই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব উপায়ে মাটির হাড়ি-পাতিল দিয়ে পাখির বাসা তৈরি করে বিভিন্ন গাছে স্থাপন করা হয়েছে। যাতে পাখিরা সহজে বাসা বাঁধতে ও বংশবিস্তার করতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা পরিষদ চত্বরকে আমরা পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করছি। এখানে কোনোভাবে পাখি ধরা, হত্যা বা বিরক্ত করা আইনত দ-নীয় অপরাধ। আজ থেকে পাখিরা এখানে নিরাপদে বিচরণ করতে পারবে। কেউ এ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
(পিএস/এসপি/আগস্ট ০৬, ২০২৬)
