ফরিদপুরে বিএনপি নেতার সেই মামলাটি সাজানো ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি প্রতিপক্ষের
রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক হাসান খানের ওপর হামলা-মামলাটি মিথ্যা, বায়োয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ওই মামলায় সদ্য জামিনপ্রাপ্ত তিন আসামি।
এর আগে, গত সোমবার (৩ আগস্ট) বিএনপি নেতা হাসান খানের ছোটভাই রাজু খান ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় চার জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা (মামলা নং ৬, তারিখ: ৩ আগস্ট' ২০২৬ ইং) দায়ের করেছিলেন। যার তিনজনই জামিন পেয়েছেন।
এ মামলা মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন- ১. মাহাতাব মোল্লা (২২) পিতা- মৃত নাসির মোল্লা ২. শাহিন মোল্লা (৪০) পিতা- সামচু মোল্লা ৩. মিনহাজ মোল্লা (২২) পিতা- আবুল মোল্লা এবং ৪. তুহিন মোল্লা (৩০) পিতা- সামচু মোল্লা সর্ব সাং মৃগি, পো: কানাইপুর, ফরিদপুর পৌরসভা ওয়ার্ড নং ৪, থানা: কোতয়ালি, জেলা: ফরিদপুর।
বৃহস্পতিবার ওই মামলার ২ নং শাহিন মোল্লা (৪০) ও ৪ নং আসামি তুহিন মোল্লা (৩০) জামিনের মধ্যদিয়ে ১ নং আসামি বাদে সবাই জামিনে মুক্ত হলেন।
মামলার এজাহারে বাদি রাজু খান উল্লেখ করেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার বড়ভাই বিএনপি নেতা হাসান শেখের ওপর গত রবিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে কানাইপুরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেল যোগে তেঁতুল তলা নিজ বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে, বিসিক শিল্প নগরীর এক নম্বর গেটে হামলা চালিয়ে জখম করা হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, এ মামলার দুই নম্বর আসামি (সদ্য জামিন প্রাপ্ত) ও স্থানীয় ফরিদপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শাহিন মোল্লা দবি করেন, ২০২৪ সালে 'হাসান খান ও রাজু খান আমার ওপর হামলা করে আমাকে মারাত্নকভাবে আহত করে। ওই হামলায় আমার বাম হাত ভেঙ্গে যায়। আমার বাবা সামচু মোল্লা আমার ওপর হামলার করার পর বাদী হয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের ২১ তারিখে একটি মামলা (মামলা নং ৩৬, তাং ২১ অক্টোবর '২০২৪ ইং) করেন। ওই হামলায় আমাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়। এবং এতে মামলাটির অন্যতম আসামি রাজু খান জেলও খেটেছেন। মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে এবং মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলমান রয়েছে।
শাহিন মোল্লা আরও জানান, ওই মামলাটি তুলে ফেলার জন্য বেশ কয়েকদিন যাবত হাসান খান ও তার ভাই রাজু খান আমাদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই মামলার একজন শাক্ষি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পরপর ওদের মাথা আরও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর গত সোমবার (৩ আগস্ট) আমি হঠাৎ শুনি ও আমার পরিবারের কয়জন মিলে হাসান খানকে নাকি হামলা করেছি। যাহা ডাহা মিথ্যা কথা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। ওনাকে কে বা কারা মেরেছেন নাকি ওনি কোনো এক্সিডেন্টের কারণে ওনার হাত কেটেছেন, আমরা চারজন আসামির কেউ তা জানি না'। তিনি জানান, এমনকি রাজু খানের করা ওই মিথ্যা মামলার এক নং আসামি সম্পর্কে আমার ভাতিজা ওই সময় ঢাকায় অবস্থান করতেছিলেন এখনও পড়াশোনার জন্য তিনি রাজধানীতেই আছেন। যার কারণে, এ মামলায় আমরা তিনজন জামিন নিলেও তিনি এখনও ছুটি না থাকায় আসতে পারেন নাই।
এদিকে, রাজু খানের করা মামলাটিকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে এ মামলার জামিন প্রাপ্ত দুই আাসামি শাহিন মোল্লা ও তুহিন মোল্লার বাবা সামচু মোল্লা জানান, 'আমি ও আমার পরিবার প্রথম শুনেছি পুলিশের কাছে। কিন্তু আমার ছেলেরা ওই ঘটনার সময় ওইদিন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ৯টার দিকে তারা যার যার রুমে ঘুমাতে চলে যান। আমার নাতী (১নং আসামি) পড়াশোনা করেন ঢাকায়। তিনি সে সময় রাজধানীতেই ছিলেন। হাসানের ভাই রাজু আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ মিথ্যা মামলাটি দেওয়ার একমাত্র কারণ- ওরা আমার ছেলে শাহিনকে মেরে হাত ভেঙে দিয়েছিলো। ওই হামলা-মামলা তুলতে আমাদের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ মামলাটি দিয়েছে হাসান-রাজুরা। ওরা যতো চেষ্টাই করুক আমরা ওই মামলাটি তুলবো না' বলেও মত দেন সামচু মোল্লা।
এ বিষয়ে হাসান খান জানান, আমার নয়টা সেলাই লেগেছে এটা তো মিথ্যা নয়, নাটক নয়। একাধিক প্রশ্নের জবাবে হাসান আরও জানান, 'ধরুন আপনার সাথে আমার বিরোধ, আমার ওপর অন্ধকারে হামলা হলো, তাহলে আমি কাকে দোষী করবো। তাছাড়া, ওদের করা মামলাটি পূর্বে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসা হওয়ার পরেও ওরা মামলা উঠায়নি। ঢাকায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে হাসান খান জানান, সে তো মাঝে মাঝে আসে। অন্ধকারে আমার তাকেই মনে হয়েছে।
এদিকে, রাজু খানের করা মামলাটি বর্তমানে কোতয়ালি থানা পুলিশের তদন্তানাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।
(আরআর/এএস/আগস্ট ০৭, ২০২৬)
