প্রকৃত আসামিদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্তিসহ নাদিম হত্যায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডের ৩ বছর পার হলেও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি প্রকৃত হত্যাকারীরা। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বারবার দপ্তর পরিবর্তন হলেও মূল আসামিদের আড়াল করে একইভাবে দেওয়া হয়েছে চার্জশিট। সিআইডি, পিবিআই ও র্যাবের দেওয়া চার্জশিটেও আসল হত্যাকারীদের আড়াল করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এই দাবি করেছেন নিহত নাদিমের স্ত্রী ও সাংবাদিকরা। এই হত্যাকাণ্ডে তিন দপ্তর 'ফরমায়েশী চার্জশিট' দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী নিহত নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম।
মানববন্ধনে বাংলা নিউজ ও একাত্তর টিভির সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, মামলার শুরু থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে টালবাহানা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এআইজি মুখলেছুর রহমান পান্না এবং এএসপি রেদুয়ান রনি—যাদের সঙ্গে মামলার আসামিদের আত্মীয়তার অভিযোগ রয়েছে—তারা তদন্ত প্রভাবিত করেছেন।
মনিরা বেগম বলেন, প্রথমে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে নাদিমের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে গলির ভেতরে নিয়ে মারধর করা হয়। কিন্তু সিআইডির তদন্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখে প্রকৃত খুনিদের বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে র্যাব তদন্ত করে। তার অভিযোগ, র্যাবের তদন্তেও সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি গোলাম কিবরিয়া সুমনসহ দুজনকে বাদ দেওয়া হয় এবং মামলার ধারাও কমিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একই ধরনের তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে তদন্ত করে আমরা সঠিক বিচার পাব না। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক নাদিম হত্যার প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে তাদের ফাঁসি দিতে হবে।’
মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও দৈনিক নয়া দিগন্তের বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি মোজাহিদ বাবু বলেন, প্রত্যেক তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তাই তার সাক্ষ্য নিয়েছেন। কিন্তু চার্জশিটে তার সাক্ষ্যের সঠিক বিবরণ আসেনি।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, তিন বছরেও সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হলেও প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি। আসামিদের স্বজন সাবেক এআইজি মুখলেছুর রহমান পান্না ও এএসপি রেদুয়ান রনির প্রভাবের কারণে ‘ফরমায়েশি চার্জশিট’ দেওয়া হয়েছে। তারা এ ধরনের চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বক্তারা সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার আসামি মাহবুবুল আলম বাবু চেয়ারম্যান, তার ছেলে রিফাতসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম, তার বাবা হাজী মো. আব্দুল করিম, সাংবাদিক বজলুর রহমান, সাজ্জাদ আনসারী, কাফি পারভেজ, শওকত জামান, জুলফিকার জাহিদ হাবিব, মোজাহিদ বাবু, জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবুসহ সাংবাদিক নেতারা।
মানববন্ধনে জামালপুর প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন।
(আরআর/এসপি/আগস্ট ০৮, ২০২৬)
