রিপন মারমা, রাঙামাটি : রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৩নং চিৎমরম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বটতলী দুর্গম পাড়ায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলাচলের একমাত্র রাস্তা ও বসতঘরের ওপর ভেঙে ও হেলে পড়ে আছে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের খুঁটি ও সংযোগ তার। এতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চরম আতঙ্ক ও মরণ ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় অন্তত ৩৫টি পরিবার।

আজ রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার প্রধান সড়কের মাঝেই অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে পড়ে রয়েছে ১১ কেভি ভোল্টের সঞ্চালিত বৈদ্যুতিক তার। এছাড়া বেশ কয়েকটি বসতঘরের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে ও ভেঙে পড়ে আছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা ক্যাউথোয়াই চিং মারমা ও আদোমা মারমা অভিযোগ করে জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরাজীর্ণতার কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ও তার ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই খুঁটিগুলো মাটিতে ও ঘরের চালে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করা হলেও তাঁরা কেবল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন, নেননি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী লাইনটি ঠিক করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। সেই চাহিদা পূরণ না করায় পরবর্তীতে তারা আর কোনো খোঁজ নেয়নি।

অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দা মানু মারমা ও উসুই থোয়াই মারমা জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি গবাদিপশু (গরু-ছাগল) মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশুসহ পুরো পাড়ার মানুষ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিৎমরমের স্থানীয় বাসিন্দা উথোয়াই মং মারমা বলেন, কিছুদিন পূর্বে বটতলী এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানাই। ওই এলাকার মানুষ অত্যন্ত হতদরিদ্র হওয়ায় নিজ দায়িত্বে বিদ্যুৎ সংস্কার করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। অর্থের জোগান দিতে না পারায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো সংস্কার কাজ করেনি।

এ বিষয়ে কাপ্তাই বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর অধীনস্থ কেউ আমাকে অবগত করেনি। তবে খুব দ্রুত ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

(আরএম/এসপি/আগস্ট ০৯, ২০২৬)