রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলামকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একইসাথে তার পাঁচটি মামলায় জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরের দিকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালতে এ গ্রেপ্তার দেখানো ও জামিন শুনানীর কার্যক্রম চলে।

মোঃ নজরুল ইসলাম (৭৩) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তর ফিংড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে ও বর্তমানে শহরের সুলতানপুরের বাসিন্দা।

সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই নজরুল ইসলামকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ঢাকার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন আদালতে পাঠায়। পরবর্তীতে তাকে ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুরাতন সাতক্ষীরার আবির হাসানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীর চরে ফেলে রাখার ঘটনায় তার চাচা মোনায়েম খান বাদি হয়ে আদালতের মাধ্যমে থানায় (জিআর-৪৩৮/২৪ সদর) নজরুল ইসলামসহ ৩৯ জনের নামে মামলা করেন। ২০২০ সালের ২৬ মার্চ ধুলিহরের অহিদুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পার্শ্ব বর্তী আমবাগানে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী পারুল বেগম বাদি হয়ে আদালতের মাধ্যমে থানায় (জিআর-৩৯৯/২৪, সদর) নজরুল ইসলামসহ ৫৮ জনের নামে মামলা করেন।

২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর গভীর রাতে সাতক্ষীরার আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কাশেমপুর গ্রামের আনারুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শিকড়ি কুলবাগানে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার ভাই জিয়ারুল ইসলাম আদালতের মাধ্যমে নজরুল ইসলামসহ ১৯জনের নামে সাতক্ষীরা সদর থানায় (জিআর-৩৮০/২৪ নং, সদর) মামলা করেন। ২০১৪ সালের ১৩ জুন গভীর রাতে সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ইসমাইল মোড়লকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাধবকাটিতে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার ভাই ইসরাইল মোড়ল বাদি হয়ে আদালতের মাধ্যমে নজরুল ইসলামসহ ৩৫ জনের নামে থানায় (জিআর-৪৪১/২৪ ,সদর) মামলা দায়ের করেন।

২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে বিএনপি- জামায়াতের হরতাল চলাকালিন ঝাউডাঙা বাজারে ভ্যান চালক গোবিন্দকাটি গ্রামের হাফিজুর রহমানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার ভগ্নিপতি সলেমান সরদার আদালতের মাধ্যমে নজরুল ইসলামসহ ৪৪ জনের নামে থানায় (জিআর-৪৩৯/২৪, সদর) হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই পাঁচটি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত বুধবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে সংশ্লিষ্ঠ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তারা আবেদন জানান। সে অনুযায়ি গত বৃহষ্পতিবার ঢাকার কারাগার থেকে তাকে সাতক্ষীরা কারাগারে আনা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে সাতক্ষীরা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। দুপুর ১২টার দিকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হলে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডল তাকে পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন। একইসাথে তার আইনজীবীরা আদালতে ওইসব মামলায় জামিন আবেদন জানালে শুনানী শেষে সব কটি মামলায় জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করা হয়।

এ ব্যাপারে মোঃ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এসব মামলার ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করতে এসব মামলায় তার নাম দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের পুলিশ উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম।
আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. সাহেদসহ ২০ জন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, আসামী মোঃ নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন না’মঞ্জুর হওয়ার পর সোমবার দুপুর একটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

(আরকে/এসপি/আগস্ট ১০, ২০২৬)