কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়িসহ দেশের তিনটি গ্রাম ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
রিপন মারমা, রাঙামাটি : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম।
আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (বিসিএফসিসি) থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
১৬২ পরিবার অধ্যুষিত এই দুর্গম পাহাড়ি গ্রামটিকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচিত করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কাপ্তাই মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা সুইহ্লাপ্রু মারমা ও সপ্না মারমা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, দেশের মাত্র তিনটি গ্রামের মধ্যে আমাদের গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচিত করায় আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আমাদের দীর্ঘদিনের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এসময় ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এসডিজি ভিলেজ করা ছিলো বিএনপি সরকারের একটি স্বপ্ন। আজকে উদ্বোধনের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। বিএনপি সরকার জনবান্ধব সরকার। এই সরকার দেশের মানুষের আত্ম-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাপ্তাই থেকে ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের আলোকে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে বহুমুখী উন্নয়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—দারিদ্র্য হ্রাস ও কৃষিভিত্তিক জীবিকার উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও আধুনিক স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার,পরিবেশ সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করা। এই মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামটিকে এসডিজি ভিলেজ করায় এটি পার্বত্য অঞ্চলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এজন্য কাপ্তাই সহ রাঙামাটিবাসী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
এসময় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক মোঃ মোবারক হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (অতিরিক্ত সচিব) সুমন বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা: নূয়েন খীসা, কাপ্তাই নৌঘাঁটির কমান্ডার ফরহাদ খান, কাপ্তাই ৩৮ বীর এর জোন কমান্ডার লে: কর্নেল নাজমুল কাদের শুভ, রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোঃ রায়হানুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা বিএনপি সভাপতি দীপু তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড: মামুনুর রশীদ মামুন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ প্রমূখ।
এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, এই পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে মিতিঙ্গাছড়ির দীর্ঘদিনের আর্থ-সামাজিক চিত্রে এক সুদূরপ্রসারী আমূল পরিবর্তন ফিরে আসবে বলে কাপ্তাইবাসী প্রত্যাশা করেন।
(আরএম/এসপি/আগস্ট ১০, ২০২৬)
