গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ, সহযোগীসহ ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এডিটের মাধ্যমে তৈরি করা অশালীন ছবি নেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে মামলার বাদীপক্ষকে দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- দেওয়ানগঞ্জের নিমাইমারী এলাকার মৃত মোবারক আলী খাঁ'র ছেলে আশকর আলী (৪০) ও একই এলাকার আসমত আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩৫)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই গৃহবধূর স্বামী ও ছেলে ঢাকায় দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ১০ বছরের মেয়েকে সাথে নিয়ে নিজবাড়িতেই থাকতেন ওই গৃহবধূ। এই সুযোগে তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতো আশকর আলী। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে এডিটের মাধ্যমে ওই গৃহবধূর অশালীন ছবি তৈরি করে। অশালীন ছবি প্রিন্ট করে সে ওই গৃহবধূকে দেখিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে জোর করে তাকে ধর্ষণ করে আশকর আলী। এভাবে ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সে বিভিন্ন সময় ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করতো। এতে সহযোগিতা করতো জাহিদুল ইসলাম।
একপর্যায়ে ওই গৃহবধূর স্বামী এলাকার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়িতে আসেন। ২০২২ সালের ৩১ মার্চ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের রাতে স্বামীর অনুপস্থিতিতে ওই গৃহবধূকে আবার ধর্ষণ করে আশকর আলী। সাথে ছিল জাহিদুল ইসলাম। এরমধ্যেই বাড়িতে উপস্থিত হয় ওই গৃহবধূর স্বামী। তাদেরকে ধস্তাধস্তি অবস্থায় ধরা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, গৃহবধূকে অশালীন ছবির ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ধর্ষণ করে আসছিল আসামি আশকর আলী। তার এই কাজে সহযোগিতা করতো জাহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর ছেলে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা বাদীপক্ষ প্রাপ্য হবেন।
(আরআর/এসপি/আগস্ট ১০, ২০২৬)
