১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি
প্রকৌশলীকে মারপিটের মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুলসহ দুইজনের জামিন নামঞ্জুর
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা, কাজ বন্ধ করে দেওয়া ও এক প্রকৌশলীকে মারপিটের অভিযোগপ দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
হাইকোর্টের নির্দেশে তারা আজ সোমবার সকালে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানী শেষে বিচারক মো. সাইদুর রহমান তা না"মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হাজী নজরুল ইসলামের বাড়ি বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের পুর্ব দুর্গাবাটি ও বিশ্বনাথ মণ্ডলের বাড়ি ভামিয়া গ্রামে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন।ওই বছরের ২৪ মে থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামায়ত নেতা হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ১৪ এপ্রিল কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১৩ মে বিষয়টি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। চেয়ারমানের নামে মামলা দিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না বলে১৯ মে হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় চাঁদার পরিমান ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ ধার্য করা হয়। ২৩ মে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমান, সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও সবুজসহ কয়েকজন জালালউদ্দিনের অফিসে এসে না পেয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানের কাছে চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়।জাহিদ হাসানকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
২৫ মে মীরপুরের আর আর প্রতিষ্ঠানের আইন কর্মকর্তা চাঁদপুর জেলার শাহাবস্তি থানার চান্দাল গ্রামের আলম মিঞার ছেলে জালাল উদ্দিন বাদি হয়ে চেয়ারম্যান নজরুল,তার ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও সবুজসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ মে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। সে অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও বিশ্বজিৎ মহামান্য হাইকোর্টে যেয়ে আবেদন করলে বিচারপতি তাদের ছয় সপ্তাহ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে ১০ আগষ্টের মধ্যে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী তারা সোমবার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবী সৈয়দ ইফতেখার আলী ও আবু বক্কর সিদ্দিকীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনুদ্দিন জানান,জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ও বিশ্বজিৎকে সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
(আরকে/এসপি/আগস্ট ১০, ২০২৬)
