রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের ক্ষুদ্র মৌসুুমি ব্যবসায়ী আবুল কালাম সরদারকে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ করে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ মামলা দায়ের করেন।

নিহত আবুল কালাম সরদার (৬০) আশাশুনি উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের রহিম সরদারের ছেলে।

এদিকে নিহত আবুল কালামের লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকেল পাঁচটায় স্থানীয় মসজিদের মাঠে নামাজে জানাযা শেষে আবুল কালামের লাশ পারিবারিক কবরস্থনে দাফন করা হয়েছে।

আলেয়া খাতুন তার মামলায় উল্লেখ করেছেন যে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী আগরদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোড়ে তার স্বামী চা খেতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি তেকে বের হয়ে যান। রাতে বাড়িতে ফেরেননি তিনি। পরদিন সকালে তিনি বিষয়টি তার ছেলে গোলঅম কিবরয়িা গোল্ডেন ও আল মামুনকে জানান। সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য আঙুর হোসেনকে অবহিত করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী নূর ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাবুর নির্মাণাধীন বাড়ির পিছন থেকে আবুল কালামের কাদামাখা লাশ দেখতে পেয়ে গিয়াসউদ্দিনের স্ত্রী সালেহা খাতুন তাদেরকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ওই লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তার স্বামীকে শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে কে বা কাহারা হত্যা করে শফিকুল ইসলামের নির্মাণাধীন ঘরের পিছনে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

তবে কয়েকটি নাম সম্বলিত চিরকুট নিরক্ষর আবুল কালামের জামার পকেটে রেখে হত্যার বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মদ খান জানান, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে আবুল কালামের লাশ মঙ্গলবার দুপুরে তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টায় স্থানীয় মসজিদের মাঠে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদি হয়ে সোমবার রাতে কারো নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক কাছেদ মুন্সির উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

(আরকে/এসপি/আগস্ট ১১, ২০২৬)