রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গিরিঙ্গীর মোড় নামক এলাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত ষাটোর্ধ বৃদ্ধ খালেক শেখ-এর বাড়ীতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৯ আগস্ট বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে বিল মামুদপুর বানু মাতুব্বর ডাঙীর গিরিঙ্গীর মোড় এলাকার তার পৈতৃক বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এতে গর্ভবতী এক নারীসহ একাধিক আহত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কোতয়ালি থানা পুলিশ।

গত সোমবার (১১ আগস্ট) এ ঘটনার ভুক্তভোগীর ওই পরিবারের নারী সদস্য মোসা. রাবেয়া বেগম (৫০) বাদি হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আজ বুধবার (১২ আগস্ট) এ ঘটনায় ওই নারীর করা অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান। এ সময় ওসি মাহমুদুল জানান, রাবেয়া বেগমের করা অভিযোগটি গ্রহণ করে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এএসআই) হেমায়েত হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় থানা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই হেমায়েত হোসেন উত্তরাধিকার ৭১ নিউজকে জানান, 'আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উভয়পক্ষের একাধিক ব্যক্তি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া, ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান হেমায়েত।

এদিকে, এ হামলার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করে এ হামলার ঘটনাটি ঘটিয়েছে এবং তাদেরকে টাকা পয়সার বিনিময়ে ভাড়া করে নিয়ে গেছেন ফরিদপুর বিটিসিএল অফিসে চাকুরি করা এক সরকারি কর্মচারী জনৈক- মো. কুদ্দুস শেখ- এমন খবর মুহুর্তে শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঘটনার দিন সন্ধ্যা থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিষয়টি প্রশাসনের সর্বমহলে জানাজানি হয় এবং জেলায় কর্মরত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর তারা, উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে ঘটনাটির একাধিক 'ছায়া তদন্ত' আকারে শর্ট নোট করে রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগমের পরিবার তাদের থানায় দেওয়া অভিযোগে কারো রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেননি।

থানায় করা এ অভিযোগপত্রে এজাহার নামীয় উল্লেখিত বিবাদীরা হলেন- ১। মো. কুদ্দুস শেখ (৫৫) পিতা- মোহন শেখ ২। চানমিয়া শেখ (৭০) পিতা- মোহন শেখ ৩। খলিলুর রহমান শেখ (৪৮) পিতা- মোহন শেখ সর্ব সাং বিল মামুদপুর নতুন ডাঙ্গি, ইউনিয়ন: আলিবাদ, থানা: কোতয়ালি, জেলা: ফরিদপুর, ৪। রনি (২৮) পিতা- আসলাম ৫। আসলাম (৫০) পিতা- অজ্ঞাত উভয় সাং গুহ লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর পৌরসভা কোতায়লি, জেলা: ফরিদপুর ৬। আবু সাঈদ শেখ (৩৫) পিতা- চানমিয়া শেখ ৭। সাইফুল শেখ (৩০) পিতা- চানমিয়া শেখ উভয় সাং সাং বিল মামুদপুর নতুন ডাঙ্গি, ইউনিয়ন: আলিবাদ, থানা: কোতয়ালি, জেলা: ফরিদপুর ৮। সেন্টু মৃধা পিতা: মৃত হিরু মৃধা ৯। সবুজ মৃধা পিতা: হিরু মৃধা উভয় সাং- টেপাখোলা লেক পাড়, ফরিদপুর পৌরসভা, কোতয়ালি, জেলা: ফরিদপুর এবং আরও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন।

এ অভিযোগে রাবেয়া বেগম উল্লেখ করেছেন, উপরোক্ত বিবাদীদের সহিত দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ মনোমালিন্য চলে আসছিলো। বিবাদিগণকে খারাপ প্রকৃতির লোক উল্লেখ এ অভিযোগপত্রে বাদি আরও উল্লেখ করেন, বিবাদিগণ মাঝে মধ্যেই তাদের পরিবারের সাথে আচরণ করতেন এবং তাদের বাড়ির জমি (যা ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির সাথে ভাই-বোন থেকেও কিছু অংশ ক্রয়কৃত রয়েছে) ওই জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করে আসছে। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্যদের দ্বারা মীমাংসা হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কারণ, তারা কারোর কথাই কর্ণপাত করেন না। এমতাবস্থায় গত ৯ আগস্ট' ২০২৬ ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে উপরোক্ত আসামীসহ আরও কমপক্ষে ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের (রাবিয়া বেগমের পরিবার) বাড়িতে হামলায় চালানো হয়। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র, রামদা, ছেনদা, কাঠের বাটাম ইত্যাদি নিয়ে এ হামলা চালায় দূর্বৃত্তরা। এ সময় রাবিয়া পরিবারের সদস্যদে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে, কিল ঘুসি মেরে পরিবারের সদস্যদের শরীরের নীলা ফুলা জখম করা হয়।

কোতয়ালি থানা পুলিশের নিকট দেওয়া ওই অভিযোগে বাদি আরও উল্লেখ করেন হামলার এক পর্যায়ে তাদের বাইয়াইয়া ও কোপাইয়া ভাঙচুর করিয়া আনুমানিক ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিধারন করে। ঐ সময় তার বসত ঘরে থাকা নগদ ৪ লক্ষ টাকা সহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহতদের প্রায় সবার শরীরেই নীলা ফোলা চিহৃ দৃশ্যমান হলেও কেউ মারাত্নকভাবে জখম হননি।

এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।

(আরআর/এসপি/আগস্ট ১২, ২০২৬)