গ্যাসের না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজি ও গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ।
১৩ আগস্ট সকালে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিসিক এলাকায় জাবেদ ফিলিং স্টেশনের সামনে এ অবরোধ শুরু হয়। সকাল ৬টা থেকে জাবেদ ফিলিং স্টেশনের সামনে জড়ো হন চালকরা। পরে গ্যাসের দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। সকাল সাড়ে দশটার দিকে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চালকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বুধবার রাত ১০টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ কিছু কিছু চালকদের সিরিয়াল ছাড়াই গ্যাস দিচ্ছে জাবেদ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা। এতে স্বজনপ্রীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে বেশিরভাগ সময়। জেলায় একটি গ্যাস পাম্প থাকায় এতে চাপও বাড়ছে বেশি। এমনকি জাবেদ ফিলিং স্টেশনটি জেলার একমাত্র গ্যাস পাম্প হওয়ায় গ্যাস নিতে চালকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দিনের পর দিন। বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে এই চাপ ও দুর্ভোগ অনেকাংশেই কমে যেতো।
বিক্ষোভ চলাকালে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান চালকরা। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। এই অবরোধের কারণে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
জানা গেছে, জামালপুরের একমাত্র এই সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে জেলার সাতটি উপজেলা ছাড়াও আশপাশের তিন জেলার ছয়টি উপজেলার যানবাহন। ফলে গ্যাস সংকটে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালকরা।
এ বিষয়ে জামালপুর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল লাইনে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
(আরআর/এএস/আগস্ট ১৩, ২০২৬)
