মাদক সেবনকারীদের সাথে কলাচাষীর বাক বিতণ্ডা
৭০০ কলাগাছে কীটনাশক স্প্রে, ৪ লাখ টাকার ক্ষতি
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : মাদক সেবনকারীদের সাথে কলাচাষীর বাক-বিতন্ডার জের ধরে ৭শ’ কলাগাছে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। এতে কৃষকের অন্তত ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাদক সেবনকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে কলাচাষী হুমায়ুন মোল্লার অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর পৌরসভার কমলাপুর গ্রামে। কলাচাষী বৃহস্পতিবার গতকাল কলাবাগানে গিয়ে বিষয়টি টেন পান। এ ব্যাপারে ওই কলাচাষী মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কলাচাষী হুমায়ুন মোল্লা বলেন, ৬ দিন আগে আমার কলা বাগানে আসি। এসময় একই গ্রামের মেহেদি ও রবি নামের দুটি ছেলে কলা বাগান থেকে বের হচ্ছিল। তাদের জিজ্ঞাসা করলে, তারা ইয়াবা সেবন করে বাগন থেকে বের হচ্ছে বলে জানান। কলা বাগানে ইয়াবা সেবন করতে নিষেধ করি। এসময় তাদের সাথে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা আমার বাগানের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। কারপর আমি পেয়ারা সহ অন্যান্য ফসল বিক্রি করতে ঢাকা যাই। বুধবার রাতে মুকসুদপুরে ফিরে আসি। বৃহস্পতিবার কলাবাগানে গিয়ে দেখি কলার আকৃতি বেঁকে গেছে। কলার ভেতরে পঁচে গেছে। গাছ ও পাতায় পঁচন ধরেছে। আমি বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসকে জানাই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমার কলাবাগান পরিদর্শন করেছেন। একে আমার প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাদক সেবীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্যারাকুয়াট বা গ্লাইফসেট জাতীয় কিছু এখানে স্প্রে করা হয়েছে। ধারণা করছি ৩/৪দিন আগে এটি স্প্রে করা হয়েছে। এতে কলার আকৃতি বেঁকে গেছে। পাতা সহ গাছে পচন ও মড়ক লেগেছে। এ বাগানের ৭শ’ কলাগাছে এগুলো স্প্রে করা হয়েছে। এতে কলাচাষীর প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাকে বাগানকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার কৃষি পরামর্শ দিয়েছে ।করনীয় সম্পর্কে অবহিত করেছি। পাশাপাশি তাকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগতি করা হবে৷
অভিযুক্ত মেহেদি ও রবি’র পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যপারে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়া গণমাধ্যম কর্মীরা মেহেদি ও রবি’র দেখা পাননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে কলাবাগান পরিদর্শন করি। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের সাথে আলোচনা করে কলাচাষীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কলাচাষী অভিযোগ একটি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি মামলা করতে চান না। এ কারণে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
(বি/এসপি/আগস্ট ১৪, ২০২৬)
