বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ
স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ শনিবার। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে তাকে সপরিবার হত্যা করা হয়। একই রাতে রাজধানীর আরও দুটি স্থানে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়।
সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে অভিযান চালিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। তার সঙ্গে নিহত হন স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং ছোট ভাই শেখ আবু নাসের। বিদেশে অবস্থান করায় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।
শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সময় তার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল এবং তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার হত্যার পর দেশে ক্ষমতার দ্রুত পালাবদল ঘটতে থাকে।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যান। এরপর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা বিদেশে আত্মগোপন করে আছেন। এর কয়েক মাস পর অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে এবং দলটি সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হয়।
আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৫ আগস্টের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা ও দোয়া, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা, বনানী কবরস্থানে নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা ও দোয়া এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে।
তবে ১৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়াসহ জেলার স্পর্শকাতর স্থানে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করার কথা জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকাল থেকে জেলা ও দায়রা জজের বাস ভবনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সড়ক, মোড়, সরকারি স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সের আশপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সের আশপাশে কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল সীমিতি করা হয়েছে।
(ওএস/এএস/আগস্ট ১৫, ২০২৬)
