মানবাধিকার কর্মী রঞ্জন কর্মকারের শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস), বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী রঞ্জন কর্মকার গত ১২ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০.২০টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেন। তাঁর প্রয়াণে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ শনিবার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকার পোস্তগোলা মহাশ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াদি সম্পন্ন হয়।
সকাল ১০ টায় রঞ্জন কর্মকারের মরদেহ বাডেমের মরচুয়ারি থেকে শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীগণ উপস্থিত হয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শুভাশিষ বিশ্বাস সাধন ও ঐক্য পরিষদের গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক ব্রজগোপাল দেবনাথের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণসভায় রঞ্জন কর্মকারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, মানবিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকার আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল দেবনাথ, ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডিএন চ্যাটার্জী, বাংলাদেশ কম্যুনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের আনোয়ার আলম চৌধুরী পারভেজ, মনিসিংহ ফরহাদ স্মৃতি ফাউণ্ডেশনের আনোয়ার জাহিদ, জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক দেবাশিস পাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি মফিদুল হল, গুলশান-বনানী পূজা ফাউণ্ডেশনের অলক সাহা, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের নিবাস মাঝি এবং প্রয়াত রঞ্জন কর্মকারের বোন তুলু কর্মকার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, কানুতোষ মজুমদার, জয়ন্ত কুমার দেব, সন্তোষ শর্মা, রমেন মণ্ডল, ড. তাপস চন্দ্র পাল, সাগর হালদার, কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী পিন্টু, নারায়ণ সাহা মনি, এ্যাড. দিপংকর ঘোষ, পদ্মাবতী দেবী, সুজন রায়, দিপংকর চন্দ্র শীল, সুশান্ত কুমার মহন্ত প্রমুখ।
স্মরণসভা শেষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে রঞ্জন কর্মকারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিচালনা কমিটি, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদ, নাগরিক সমাজ, নারী প্রগতি সংঘ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, স্টেপ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট এবং মনিসিংহ ফরহাদ স্মৃতি ফাউণ্ডেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ। পরে ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে বেলা ১২টায় রঞ্জন কর্মকারের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও সিনেট ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে শুভানুধ্যায়ীগণ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর মরদেহ পোস্তগোলা মহাশ্মশানে নেওয়া হয় এবং সেখানে শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
রঞ্জন কর্মকারের মৃত্যুতে মানবাধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন, মানবিক আদর্শ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
(পিআর/এসপি/আগস্ট ১৫, ২০২৬)
