বাংলাদেশের কাছে লজ্জাজনক হার, অস্ট্রেলিয়া দলে বড় পরিবর্তনের দাবি পন্টিংয়ের
স্পোর্টস ডেস্ক : ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটের শোচনীয় পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের দল নির্বাচন ও নীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দিয়ে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ও বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারদের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করা এবং তরুণদের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ডারউইন টেস্টের অস্ট্রেলিয়া একাদশের ১১ জন ক্রিকেটারের মধ্যে কেবল ২৭ বছর বয়সী ক্যামেরন গ্রিন ছাড়া বাকি সবার বয়সই ছিল ৩০ বছরের ওপরে। ৫১ বছর বয়সী কিংবদন্তি অধিনায়ক পন্টিংয়ের মতে, ডারউইন টেস্টের আগেই প্রতিষ্ঠিত কয়েকজন তারকাকে বাদ দিয়ে দলে নতুনদের সুযোগ দেওয়া ও পরিবর্তনের স্পষ্ট যুক্তি এবং যথেষ্ট প্রমাণ নির্বাচকদের সামনে ছিল।
ম্যাচের শেষ দিনে চ্যানেল সেভেনে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় নিজের চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে পন্টিং বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই সেশনের স্কোরকার্ডগুলো পর্যালোচনা করি এবং পুরো টেস্ট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া একটি সেশনও জিততে পারেনি। তাহলে ভুলটা কোথায় হলো? এখন পর্যন্ত সবকিছুতেই ভুল হয়েছে।
’
দলে দ্রুত পরিবর্তন আনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বিব্রতকর এক পরাজয়ে রূপ নিয়েছে। আমার মনে হয় দলে পরিবর্তন আনা এখন অনিবার্য।
গত গ্রীষ্মের শেষেই আমি বলেছিলাম যে দল পুনর্গঠন শুরু করার জন্য এটিই আদর্শ সময়, কারণ কিছু খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের মান পড়ে যাচ্ছিল।’
পন্টিং আরও যোগ করেন, ‘দেখুন, পরিবর্তন চাইবার ক্ষেত্রে আমি সবার শেষ ব্যক্তি। অধিনায়ক বা খেলোয়াড় হিসেবে আমি সবসময় দলটিকে একসঙ্গে ধরে রাখতে পছন্দ করতাম। পরিস্থিতি চরম বাজে রূপ না নেওয়া পর্যন্ত আমি কাউকে বাদ দেওয়ার কথা বলি না। কিন্তু এই টেস্টে আসার আগেই এমন যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যা বলছিল যে, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করলে তাদের খুব বেশি কিছু হারানোর ছিল না; হয়তো নতুন একজন ওপেনার আনা যেত, হয়তো তিন নম্বরে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া যেত। আমি মনে করি এখন সেটা করতেই হবে।’
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ট্রেন্ট কোপল্যান্ড এসইএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হারকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘যেভাবে ম্যাচটি শেষ হয়েছে, তাতে খেলোয়াড়রা নিজেরাও নিশ্চয়ই ভেঙে পড়েছে। আমি এটাও মনে করি যে তারা এমন ভাববে না যে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য একটি টেস্ট ফলাফল।’
কোপল্যান্ড আরও কড়া ভাষায় বলেন, ‘যখন আপনি নিজের চেনা কন্ডিশনে খেলছেন, তখন আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল বা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কারা খেলছে, তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচে আপনি বাংলাদেশের কাছে এভাবে হারতে পারেন না। আমি পুরোপুরি আক্রমণাত্মক হতে দ্বিধা করলেও বলব; এটি একটি লজ্জাজনক পরাজয় এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা মাঠে নেমেছিল সেই ১১ জন ক্রিকেটার এবং অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ও তার কোচিং স্টাফরাই এটা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারছে।’
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের তৃতীয় টেস্ট শতক হাঁকিয়ে সমালোচনার কিছুটা জবাব দিয়েছেন অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। তবে ম্যাকের দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন জেক ওয়েদারাল্ড ও মার্নাস লাবুশেনের মতো ব্যাটাররা।
অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট মার্ক ওয়াহও মনে করেন দলে পরিবর্তন আসা নিশ্চিত এবং সম্ভাব্য বাদ পড়াদের তালিকায় তিনি ওয়েদারাল্ডের নাম উল্লেখ করেছেন।
ফক্স স্পোর্টসকে মার্ক ওয়াহ বলেন, ‘আমার মনে হয় ওয়েদারাল্ড সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে এবং দলে দুটি পরিবর্তন এলে আমি মোটেও অবাক হব না। এর পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ রয়েছে, তাই ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনতে চাইলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগেই কাউকে একটি টেস্ট খেলতে দেওয়া ভালো হবে। আমার বিবেচনায় এরপর ইংলিস, রেনশ এবং ম্যাকসুইনি; এই তিন ব্যাটারই পরবর্তী বিকল্প। রেনশ সাম্প্রতিক সময়ে সুযোগ পায়নি জানি, তবে তাকে মূলত ওপেনার হিসেবেই ভাবা হয়েছিল এবং সে বর্তমানে বেশ ভালো খেলছে।’
সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার দলের ব্যাটিং বিন্যাস নিয়ে যোগ করেন, ‘মিডল অর্ডারে যদি পরিকল্পনা কাজ না করে এবং হেডকে যদি আবারও আগের জায়গায় ফেরত পাঠাতে হয়, তবে আপনাদের সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।’
(ওএস/এএস/আগস্ট ১৬, ২০২৬)
