শ্রীনগর প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলের প্রবাসী হরি আচার্যের স্ত্রী রিতা ভট্টাচার্যকে রান্না করার সময় এলোপাথারী কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত দেবর রুহি আচার্যের বিরুদ্ধে। রিতা ভট্টাচার্য দুই কন্যাসন্তান নিয়ে এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার দেবর রুহি আচার্য ভাগ্যকুল হাইস্কুল রোডে দর্জি দোকান চালালেও দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা আসক্ত হওয়ায় ঠিকমতো ব্যবসায় মনোযোগী ছিলেন না। বহুদিন ধরেই আলাদা সংসার ও আলাদা বাড়ি হলেও রুহি আচার্য সাম্প্রতিক সময়ে বৌদির নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়ে তা পরিশোধ করেনি।

গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার পরে তার ছোট কন্যা স্কুল থেকে ফিরে মাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। এখনও রিতা ভট্টাচার্য ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে অচেতন অবস্থায় আছেন বলে পারিবারিক সূত্র জানায়। প্রথমে দেবর রুহি আচার্য বৌদীর সাথে হাসপাতালেই ছিলো। পরে তার সম্পৃক্ততার কথা ফাঁস হলে সে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

ওই এলাকার গকুল বর্মন জানায়, রুহি আচার্যকে হরি আচার্যের বাড়ি থেকে বের হয়ে বালুতে রক্তাক্ত হাত মুছতে দেখে জানতে চাইলে কিছু না বলেই সে দ্রুত চলে যায়। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি তার শরীরে রক্ত দেখতে পায়। রুহি আচার্যের স্ত্রীও স্বীকার করেন যে, তার স্বামী ওই সময় ভেজা কাপড়ে ঘরে এসে তা বদল করে চলে যায়। এরপর থেকে রুহি আচার্যের আর

কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাগ্যকুল হাইস্কুল রোডেই উজ্জ্বল ফার্মেসীর মালিক অরুন আচার্য নিশ্চিত করে যে, ওই ঘটনার পর থেকে রুহি আচার্যের দর্জি দোকানও বন্ধ রয়েছে। রিতা আচার্যের রান্না ঘর থেকে কাসুন্দির ভাঙা বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এমনকি তার শরীরেও কাসুন্দি ও রক্তের ছাপ লেগে ছিল। এসব কারণে এলাকাবাসীও সন্দেহ করছে দেবর রুহি আচার্যই তার বৌদীকে হত্যার চেষ্টা করেছে। দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবি স্থানীয়দের। এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, রুহি আচার্য ভাগ্যকুল তহসীল অফিসের পরিত্যক্ত কক্ষে ইয়াবা সেবনের আখড়া বানিয়ে নিয়েছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আরও কয়েকজনকে নিয়ে পরিচালিত একটি মাদক সিন্ডিকেটের সাথে রুহি আচার্য জড়িত। অভিযুক্ত রুহি আচার্যের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিয়োগ দায়ের হয়েছে। আহত ওই গৃহবধূর খোঁজ নিয়েছি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

(এআই/এসপি/আগস্ট ১৬, ২০২৬)