রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের কাঠঘর ও শৌচাগারসহ ২৫ শতক জমি দখল করে বানানো খুপড়ি ঘর সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ থানার গোলঘরে অনুষ্ঠিত এক শালিসি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফতেপুর গ্রামের কাছেদ আলী ও আল মামুন জানান, দেওয়ানাী আদালত ও গ্রাম্য আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ১৪ আগষ্ট শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে রাম দা, শাবল, লাঠি, লোহার রড হাতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল, তার ভাই আজিবর , জামির আলী জাম্বু, টেক্কা ফারুক, আজগার গাজী, ফাতেমা খাতুন (বড় খুকী), হাসিনা বেগম, ইমান আলী গাজী, আব্দুর রহমান, আশরাফুল, ফারুক, তাদের স্ত্রী ও সন্তানসহ শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী জয়দেব রজক ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পবিবারের প্রায় ২৫ শতক জমি নেট ও বেড়া দিয়ে দখল করে নেয়। সেখানে বানানো হয় সিমিন্টের পিলার ও এসবেস্টর্স দিয়ে একটি খুপড়ি ঘর । জানালা দিয়ে ওইসব পরিবারের সদস্যদের রাম দা দিয়ে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়।

শনিবার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দুপুরে বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক বাদি হয়ে থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে রবিবার বিকেলে উভয়পক্ষকে নিয়ে থানার গোলঘরে উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামানের উপস্থিতিতে শালিসি সভা আহবান করা হয়।

ফতেপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর জানান, রবিবার সন্ধ্যায় সাইফুলের সাত শতক জমি দাবির অনুকুলে কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে তাকে অবৈধ ঘর ও বেড়া সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলে সাইফুলের পরিবারকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আদালতে রজক পরিবারের রেকর্ড সংশোধনের মামলা চলমান থাকবে।

শালিসি সভায় বাসুদেব রজক, রীনা রানী রজক, জামির আলী জাম্বু, টেক্কা ফারুক, দক্ষিণ শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজী, ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি জুলফিকার সাঁফুই, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড় উপস্থিত থেকে শালিসনামায় সাক্ষর করেন।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে গ্রাম পুলিশ সাইফুল পরিবারকে অবৈধ নির্মাণ অপসারণ করে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে গত ২০ জুলাই কালিগঞ্জের কাশিবাটিতে তৃতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ফারাজানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর ঝাল মুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া খাতুনকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। চার সপ্তাহ পার হলেও সুমাইয়া হত্যা মামলার কোন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়া ও ১৪ আগষ্ট গভীর রাতে জয়দেব রজক ও তাদের ছয়টি পরিবারের ২৫ শতক জমি জবরদখলের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের উপর সাধারণ মানুষের হতাশা বিরাজ করছিল। এ

রই মধ্যে রবিবার বিকেলে কালিগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম হাওলাদারকে জরুরীভিত্তিতে বদলী করে সাতক্ষীরা আদালতে বদলী করা হয়েছে। কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পাটকেলঘাটা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহীন রবিবার সন্ধ্যায় যোগদান করেছেন।

(আরকে/এএস/আগস্ট ১৭, ২০২৬)