বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা তথা পার্শবর্তী এলাকা জুড়ে শিক্ষা ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ১১২ বছর ধরে উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থীর কাছে মানসম্মত শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে পরিচিত। অবকাঠামো, বিশাল ক্যাম্পাস, দক্ষ শিক্ষক, সমৃদ্ধ শিক্ষা পরিবেশ ও গৌরবময় ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও এখনও সরকারি না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের আক্ষেপ রয়ে গেছে।

জানা যায়, তৎকালীন সরকারের ডেপুটি কমিশনার ও প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী নওদাবগা গ্ৰামের বুনিয়াদি পরিবারের সন্তান। ইনারা হলেন সহোদর দুই ভাই খান বাহাদুর কমর উদ্দিন আহম্মেদ এবং ছামসউদ্দিন আহম্মেদ। তাদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান অদ্যাবধি পর্যন্ত চলে আসছে। এক সময় আশপাশে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা ছিল এই প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে শতবর্ষ উদযাপন করেছে। অতীতে এখানে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র থাকলেও পরবর্তীতে তা স্থানান্তর করা হয়। তবে ২০১৩ সাল থেকে ভোকেশনাল (কারিগরি) শিক্ষা শাখার পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে সফল ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমানে ওই শাখায় নিয়মিত পাঠদান চলছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪.৬৪ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা বিদ্যালয়টিতে রয়েছে সুদৃশ্য একাডেমিক ভবন, বিশাল খেলার মাঠ, শহীদ মিনার, মসজিদ, বিজ্ঞানাগার, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, স্টাফ কোয়ার্টার, সীমানা প্রাচীর সহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো। শিক্ষক সংকটও নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। নারী শিক্ষক ৬ জন, পুরুষ শিক্ষক ২২ জন এবং ৭ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। বিশাল ক্যাম্পাসের কারণে প্রতি তিন বছর পরপর এখানে উপজেলা পর্যায়ের স্কাউট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়ের অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সংসদ সদস্য,সচিব সহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা ও সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বাবু বলেন, আমি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র। শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানটি সবদিক থেকেই সরকারি হওয়ার যোগ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার আবেদন, দ্রুত বিদ্যালয়টিকে সরকারি ঘোষণা করা হোক।

প্রবীণ প্রাক্তন শিক্ষার্থী এমদাদুল হক বলেন, এ বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। অথচ এত পুরোনো ও সমৃদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান এখনও সরকারি হয়নি। সরকারের উচিত দ্রুত বিদ্যালয়টিকে সরকারি করা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, ১১২ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে আমরা নিরলস ভাবে কাজ করছি। অনেকেই বিদ্যালয়টি সরকারি করার দাবি জানিয়ে থাকেন। আমরাও মনে করি, সব ধরনের যোগ্যতা বিবেচনায় এটি সরকারি হওয়ার দাবিদার।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সার্বিক উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখা সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করা হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিদ্যমান অবকাঠামো ও শিক্ষা পরিবেশের কারণে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিবর্তে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টিকে সরকারি ঘোষণা করাই হবে সময়োপযোগী ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত।

(বিএস/এসপি/আগস্ট ১৭, ২০২৬)