তুচ্ছ ঘটনায় জীবন গেল কিশোরের
রাঙামাটিতে ঘাতকের আত্মসমর্পণ ও নেপথ্য ইন্ধন খুঁজছে পুলিশ
রাঙামাটি প্রতিনিধি : রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনা ও পূর্ব শত্রুতার জেরে স্বপন চাকমা (২৫) নামের এক যুবকের চুরিকাঘাতে রিপন চাকমা (১২) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের গণধোলাইয়ের ভয়ে ঘাতক নিজেই কাপ্তাই সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দপ্তরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হেডম্যান পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোর রিপন চাকমা কাপ্তাই থানাধীন হরিণছড়া গ্রামের লক্ষচ চাকমার ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সে গত প্রায় তিন বছর ধরে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে জীবতলী হেডম্যান পাড়ায় তার খালার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বপন চাকমা জীবতলী হেডম্যান পাড়ার রিময় লাল চাকমা ও মেন্ডী চাকমা ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রিপনের সঙ্গে অভিযুক্ত স্বপনের বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য ও ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছিল। আসামির পোষা দুটি কুকুরের চোখ নষ্ট করে দেওয়া এবং আসামির মাছ ধরার জাল কেটে দেওয়ার মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ পোষণ করতেন স্বপন চাকমা।
ঘটনার দিন বিকেলে আসামির পিতা নদীতে মাছ ধরতে যান এবং মাতা চা পান করতে স্থানীয় দোকানে গেলে স্বপন বাড়িতে একা ছিলেন। এ সময় রিপন চাকমা আসামির বসতঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দোকান থেকে খাবার সামগ্রী এনে দেওয়ার কথা বলে কৌশল করেন ঘরের ভেতরে ডেকে নেন স্বপন। পরবর্তীতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঘরে থাকা চাকু দিয়ে রিপনের গলায় মারাত্মক আঘাত করেন তিনি। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত স্বপন চাকমা নিহতের মরদেহ নিজ ঘরে রেখে এলাকায় গণপিটুনির শিকার হওয়ার ভয়ে পালিয়ে বাঁচতে এবং আইনগত সহায়তা পেতে সরাসরি কাপ্তাই সার্কেল অফিসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
এ বিষয়ে কাপ্তাই সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, “গতকাল যে কিশোরকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এলাকায় গণধোলাইয়ের ভয়ে সেই ঘাতক নিজে কাপ্তাই সার্কেল অফিসে এসে আত্মসমর্পণ করে। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি কাপ্তাই থানাকে অবগত করি এবং থানা থেকে পুলিশ ফোর্স এর মাধ্যমে আসামিকে কাপ্তাই থানার হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় তাকে সোপর্দ করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুড়িসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “সে কেন এই নৃশংস পথ বেছে নিয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কারও কোনো ইন্ধন রয়েছে কি না, তা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
বর্তমানে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা এই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
(আরএম/এসপি/আগস্ট ১৮, ২০২৬)
