কালিগঞ্জের ফতেপুরে রজকদের জমি দখলে একের পর এক মামলা গ্রাম পুলিশ সাইফুলের
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের সাত শতক জমি গায়ের জোরে জবরদখল করতে না পেরে আদালত ও প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক মামলা করার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদেও দফাদার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
গত ১৮ ও ১৯ আগষ্ট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জামির আলী কারিকরের দুটি মামলার পর ১৯ আগষ্ট সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে জয়দেব রজক ও সাবেক ইউপি সদস্য অনোয়ারুল মীরসহ নয়জনকে বিবাদী করে সাতক্ষীরার আমলী আদালত-২ এ মামলা করেছেন।
ফতেপুর গ্রামের জয়দেব রজক জানান, দেওয়ানাী আদালত ও গ্রাম্য আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ১৪ আগষ্ট শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে দফাদার সাইফুল, তার ভাই জামির আলী জাম্বু, টেক্কা ফারুকসহ শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পবিবারের প্রায় ২৫ শতক জমি নেট ও বেড়া দিয়ে দখল করে নেয়। সেখানে বানানো হয় বাঁশের খুটি ও এসবেস্টর্স দিয়ে একটি খুপড়ি ঘর। ১৭ আগষ্ট পুলিশের মধ্যস্ততায় জামির আলী কারিকর ও টেক্কা ফারুক ১৮ আগষ্ট সকাল ১০টার মধ্যে তাদের নির্শিত অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে নিশ্চিত করলেও তারা বিলম্ব করে অপসারণ করে। একই দিনে জামের আলী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দলিল নং বিহীন পিটিশন- ১১১৭ নং মামল করলে তা খারিজ হয়ে যায়। ওই আর্জিতে তারা কোন দলিল মূলে জমি কিনেছেন তা উল্লেখ করেননি। একপর্যায়ে জামের আলীর বাবা গোলাম রসুল দফাদার ১৯৬৬ সালে ওই জমি রেজিষ্ট্রি কোবালা মূলে কেনেন বলে উল্লেখ করে জামের আলী ১৮ আগষ্ট একই আদালতে পিটিশান-১১২১/২৬ নং মামলা করলে পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও কালিগঞ্জ সহকারি ভূমি কমিশানরকে দখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
একই দিনে সাইফুল দফাদার তার বাবা গোলাম রসুৈ ১৯৯৬ সালের ২৫ জুলাই মোহাম্মদ আলী গাজীর কাছ থেকে ৩৩২১ নং কোবালা দলিল মূলে কিনেছেন দাবি করে তাতে থাকা সাড়ে তিন লাখ টাকার জিনিসপত্র গত ১৪ আগষ্ট রাতে রজক পরিবারের লোকজন ও আনারুল মীর ক্ষতিসাধন করেছেন মর্মে উল্লেখ করে আমল-২ আদালতে মামলা করেছেন। বিচ রজকদের সাত শতক জমিতে ঘরবাড়ি ভাংচুর করে সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে মর্মে ২০২৩ সালের ভূমি আপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে মামলা(সিআর-৬৮৫/২৬ কালিঃ) করে আদালতে দলিলের ফটোকপি জমা দিয়েছেন। বিচারক মেহেদী হাসান আগামি ১৩ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কালিগঞ্জ সহকারি কমিশনারকে (ভূুমি) নির্দেশ দিয়েছেন।
(আরকে/এসপি/আগস্ট ২১, ২০২৬)
