রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদরের গড়িয়াডাঙা  গ্রামে জমির আইল কেটে পানি বের করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজার  লাঙ্গলের ঈশ এর আঘাতে জিতেন্দ্র নাথ মণ্ডল নামের এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার রাতে নিহতের ছেলে হাজেরা মণ্ডল বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় আজ সোমবার সকালে বাড়িতে ক্ষমা চাইতে আসা বৃদ্ধা সীতা রানী মণ্ডলকে বাড়িতে আটকে রেখে পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন, গড়িয়াডাঙা গ্রামের একই পরিবারের ভবেন মণ্ডল, তপন মণ্ডল, তাদের বাব বৃদ্ধ পাঁচু মণ্ডল ও মা সীতা রানী মণ্ডল।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তপন মণ্ডল ও ভবেন মণ্ডল ভারতে পালিয়ে যেয়ে বিএসএফ এর হাতে আটক হয়ে কারাগারে অবস্থান করা, তাদের বৃদ্ধ বাবা পাঁচু মণ্ডল আত্মগোপনে থাকা ও বাড়িতে একমাত্র নারী অন্তঃস্বত্বা বিশাখা মণ্ডল একাকী অবস্থান করায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। একটি মহল তাদের পানিতে ভেজানো পাট না ধুতে দেওয়া ও পার্শ্ববর্তী কোন বাড়িতে না যেতে দেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ।

নিহত জিতেন্দ্র নাথ মণ্ডলের (৫৬) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গড়িয়াডাঙা গ্রামের ছিরু মণ্ডলের ছেলে।

মামলা ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জিতেন মণ্ডলের ধানের ক্ষেতের নীচে বড় ভাই পাঁচু মণ্ডলের কৃষি জমি রয়েছে। জিতেনের জমিতে ধান লাগানো হলেও পাঁচু মণ্ডলের জমিতে জলের অভাবে ধান লাগাতে পারেনি। একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে পাঁচু মণ্ডলের ছেলে ভগেন মণ্ডল ও তপন মণ্ডল কাউকে না জানিয়ে জি জমির আইল কেটে সমস্ত জল পাঁচু জমিতে নামিয়ে নিলেতেন মণ্ডলের ক্ষেত জলশূন্য হয়ে যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিতেন মণ্ডল এসে আইল কাটার প্রতিবাদ করায় পাঁচু মণ্ডল ও শিখা রানী মণ্ডলের নির্দেশে লাঙ্গলের ঈশ দিয়ে ভবেন মণ্ডল ও তপন মণ্ডল বাবার মাথায় আঘাত করে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শনিবার চারাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভবেন ও তপন ভারতের আমুদিয়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যদের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে।

সোমবার সকালে সরেজমিনে গড়িয়াডাঙা গ্রামে গেলে দেবহাটা উপজেলার চাঁদখালি গ্রামের পরিমল মণ্ডলের স্ত্রী ফুলঝুরি মণ্ডল জানান, কাকা জিতেন মণ্ডলের মৃত্যুর সঙ্গে তার দুই ভাই জড়িত থাকার অভিযোগ করে হাজেরা মণ্ডল প্রথমে সাংবাদিকদের জানালেও রবিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে তার বাবা পাঁচু মণ্ডল ও মা সীতা রানী মণ্ডকে জড়িয়ে দুই ভাইসহ চার জনের নামে মামলা করেছে। পুরুষশূন্য বাড়িতে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি মা ও ভাইয়ের স্ত্রীদের সাথে দেখা করতে যান। বাবা দুর্ঘটনায় জখম হওয়ায় তাকে দেখতে যাওয়ায় ভাই তপনের স্ত্রী অঞ্জলিকে বাড়িতে পাননি। একপর্যায়ে সোমবার সকাল ৬টার দিকে মাকে নিয়ে তিনি কাকিমা জিতেন মণ্ডলের স্ত্রীর কাছে জান। তার পায়ে ধরে ক্ষমা চান তিনি ও মা। একপর্যায়ে হাজেরা মণ্ডল তাদেরকে উঠান থেকে ঘরে ডেকে নিয়ে আটক রাখে। খবর পেয়ে এলাকার বহু মানুষ ওই বাড়িতে চলে আসে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ আসামী হিসেবে মাকে সকাল ১০টার দিকে থানায় নিয়ে যায়। তাকে বাড়িতে যেতে বলা হয়। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় ভবেনের স্ত্রী প্রতিবেশি গোবিন্দ মণ্ডল ও বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে গেলে হাজেরা মণ্ডলের লোকজন তাদেরকেও হুমকি দিচ্ছে। ১০০ আঁটিরও বেশি ভেজানো পাট না ধোয়ার জন্য সোমবার সকালে শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদুর রহমান জানান, জিতেন মণ্ডল হত্যার ঘটনায় ছেলে হাজেরা মণ্ডল বাদি হয়ে রবিবার রাতে ভবেন মণ্ডলসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। বাদির বাড়িতে আটককৃত আসামী সীতা রানী মণ্ডলকে উদ্ধার করে সোমবার বিকেলে আদালতের মধ্যেমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি রয়েছে।

(আরকে/এসপি/আগস্ট ২৪, ২০২৬)