ভারতে জাহাজডুবিতে নিখোঁজ সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ এমভি ওশান উইনার ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। মামুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা ।
গত ২২ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে যায়। পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার।বর্তমানে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযানের দিকে তাকিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনের মধ্যে কেউ মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, কেউ আবার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন তথ্যের অপেক্ষা করছেন।
মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, তার ছোট ভাইয় মামুন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জাহাজে কর্মরত। প্রায় চার মাস সমুদ্রে দায়িত্ব পালনের পর ভারতের ওড়িশা থেকে সিঙ্গাপুরগামী এমভি ওশান উইনার-এ জাহাজে ছিলেন। গত বুধবার আমার ভাইয়ের সঙ্গে অনলাইনে সর্বশেষ কথা হয়েছে। তার স্ত্রীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার কথা হয়েছিল। এরপর শুক্রবার জাহাজটি লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার খবর পান তারা ।
তিনি আরও বলেন, জাহাজটির ২৪ জন ক্রুর মধ্যে মামুনই একমাত্র বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর দুজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও তাদের কেউ বাংলাদেশি নন। তারা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত মামুনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তারা।
মামুনের স্বজনরা জানান, মামুনের মা দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত । ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
মামুনের মেজ ভাই আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, জাহাজডুবির খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবার ও স্বজনেরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। মামুনের বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দুর্ঘটনার পর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জীবিত কারও সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত সেই তথ্য পরিবারকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। একই সাথে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য : ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এমভি ওশান উইনার ওডিশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। জাহাজটি প্রায় ২২৫ মিটার দীর্ঘ এবং এতে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন লৌহ আকরিক ছিল। গত ২২ আগস্ট বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পায়। পরে ভারতীয় কোস্টগার্ডের বরদ, আনমোল ও বিজিত জাহাজও অভিযানে নামে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনের, ৩ জন মিয়ানমারের ও একজন বাংলাদেশের নাগরিক। জাহাজডুবির পর এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২২ জনের সন্ধানে অভিযান চলছে।
(আরকে/এএস/আগস্ট ২৫, ২০২৬)
