নড়াইলে শিক্ষকের মারধরে হাসপাতালে ৭ম শ্রেণীর ছাত্র, তদন্ত কার্যক্রম শুরু
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইল সদর উপজেলায় আর.বি.এফ.এম ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ ওই শিক্ষার্থী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির সদস্যরা তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।
আহত শিক্ষার্থীর নাম মুমিন হাওলাদার। সে স্থানীয় আর.বি.এফ.এম ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলামসহ সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু ও ইসরাফিল হোসেনের বিরুদ্ধে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ এনেছে মুমিনের পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুমিনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে তার দাদির কাছে বড় হচ্ছে। শৈশবে একটি দুর্ঘটনায় তার মাথায় ৩২টি সেলাই দিতে হয়েছিল, যার ফলে সে আগে থেকেই শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল। গত ১৯ আগস্ট বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা দেখতে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা মুমিনকে ক্লাসরুমে আটকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
আহত মুমিন জানায়, শিক্ষকরা তাকে বেত্রাঘাত করার পাশাপাশি দেয়ালে মাথা ঠুকে দিয়েছেন। নির্যাতনের পর সে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং দফায় দফায় অচেতন হয়ে বমি করতে থাকে। প্রথমে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকরা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নান্নু ও ইসরাফিল হোসেন দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা মীমাংসা করার জন্য তাদের শাসন করা হয়েছিল মাত্র, কোনো প্রকার শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। তবে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর খোঁজ নিয়েছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এইচ তাসফিকুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল সোমবার ঘটনাস্থল ও আহত শিক্ষার্থীর বাড়ি পরিদর্শন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।
(আরএম/এসপি/আগস্ট ২৫, ২০২৬)
