রোনালদোর পর পিএফএ বর্ষসেরা ব্রুনো ফের্নান্দেস
স্পোর্টস ডেস্ক : প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমসেরা হওয়ার পর এবার সতীর্থদের স্বীকৃতিও লুফে নিলেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পুরস্কার হিসেবে প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই পর্তুগিজ অধিনায়ক।
গত মৌসুমে কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে যেন খোলনলচে বদলে গিয়েছিল রেড ডেভিলরা। আক্রমণভাগের চার খেলোয়াড়কে স্বাধীনভাবে খেলার লাইসেন্স দিয়েছিলেন কোচ, আর সেই কৌশলের সফলতম রূপকার ছিলেন ৩১ বছর বয়সী ফের্নান্দেস।
মাঠে তার জাদুকরী প্লে-মেকিংয়ের সুবাদে রেকর্ড ২১টি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি ৯টি গোল আসে তার পা থেকে। ব্রুনোর এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড লিগে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে এবং দাপটের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রত্যাবর্তন করে।
এই পুরস্কার জয়ের মধ্য দিয়ে স্বদেশি কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি কীর্তি ছুঁয়েছেন ব্রুনো। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে রোনালদোর পর মাত্র দ্বিতীয় পর্তুগিজ হিসেবে পিএফএ বর্ষসেরা হলেন তিনি।
ব্রুনোর এই সাফল্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুকুটেও যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্লাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ বার পিএফএ বর্ষসেরা ফুটবলার পাওয়ার রেকর্ড এখন ইউনাইটেডের।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে স্পোর্তিং সিপি থেকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পা রাখার পর থেকে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। এ পর্যন্ত ৩১৪ ম্যাচে ১১০ গোল ও ১০৬ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। প্রিমিয়ার লিগ যুগে ক্লাব কিংবদন্তি ওয়েইন রুনির (২৯৫ ম্যাচ) পর দ্বিতীয় দ্রুততম হিসেবে ২০০ গোলে অবদান রাখার অনন্য কীর্তিও এখন শুধুই তার।
পুরুষদের পাশাপাশি পিএফএ উইমেন’স প্লেয়ার অব দ্য ইয়ারের খেতাব জিতে নিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির জ্যামাইকান ফরোয়ার্ড খাদিজা মনিফা শ। উইমেন’স সুপার লিগে গত মৌসুমে ২১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই তারকা। অসাধারণ ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়ে ২০২৪ সালের পর আবারও এই পুরস্কার নিজের করে নিলেন তিনি।
পিএফএ বর্ষসেরা একাদশে চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ও রানার্সআপ ম্যানচেস্টার সিটির জয়জয়কার। আর্সেনাল থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন ও সিটি থেকে চারজন জায়গা পেয়েছেন।
একনজরে পিএফএ বর্ষসেরা একাদশ
গোলকিপার: দাভিদ রাইয়া (আর্সেনাল)
রক্ষণভাগ: গাব্রিয়েল মাগালাইস (আর্সেনাল), নিকো ও’রাইলি (ম্যানচেস্টার সিটি), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), জুরিয়েন টিম্বার (আর্সেনাল)
মাঝমাঠ: ব্রুনো ফের্নান্দেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ডেক্লান রাইস (আর্সেনাল), রায়ান শের্কি (ম্যানচেস্টার সিটি)
আক্রমণভাগ: আর্লিং হলান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি), আন্তোয়ান সেমেনিও (ম্যানচেস্টার সিটি), ইগোর চিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড)
(ওএস/এএস/আগস্ট ২৬, ২০২৬)
