সোনাতলায় রাস্তার ধারে আবর্জনার স্তুপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হাসপাতাল-মাদ্রাসা ও রেলযাত্রীরা
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভায় গৃহস্থালির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে না ফেলে রেলওয়ের জায়গায় ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে রেলস্টেশন, হাসপাতাল, প্রাণিসম্পদ অফিস, উপজেলা পরিষদে অভ্যন্তরে পল্লি উন্নয়ন অফিস ও একটি বালিকা মাদ্রাসার আশপাশের পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে। বাতাসে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী, চিকিৎসক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ট্রেনযাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাতলা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ির বর্জ্য তারা ডাস্টবিনে ফেলেন।পরদিন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে স্টেশন সংলগ্ন টাওয়ার এবং প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গায় স্তূপ করে রাখেন। ফলে প্রতিদিনই এসব এলাকায় নতুন করে বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হচ্ছে। স্টেশন থেকে হাসপাতাল সংলগ্ন রেলগেট পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ। এ পথ দিয়েই প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, রোগী ও সাধারণ মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার পাশের বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে তাদের নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে দুপুরের দিকে দুর্গন্ধের মাত্রা বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা। বর্জ্যের স্তূপে বৃষ্টি ও পরে রোদ পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোনাতলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আনোয়ার হাসান বলেন, পাশের আবর্জনার স্তূপে বৃষ্টি হওয়ার পর রোদ উঠলে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এতে প্রাণীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনাও অনেকটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে যায়।
সোনাতলা হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বর্জ্যের দুর্গন্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, দুপুরের দিকে দুর্গন্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে তাদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রেলস্টেশনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী জানান, বর্জ্যের দুর্গন্ধের কারণে স্টেশনে স্বাভাবিক ভাবে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ট্রেন ধরার জন্য বাধ্য হয়ে দুর্গন্ধের মধ্যেই অপেক্ষা করতে হয়।
ফজিলা শরীফ বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রীরা জানান, বাতাসের সঙ্গে বর্জ্যের দুর্গন্ধ পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করাও কঠিন হয়ে যায় বলে তারা জানান।
পথচারী সাব্বির হোসেন বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে নাক-মুখ বন্ধ করে রাখতে হয়। কখনো কখনো এত তীব্র দুর্গন্ধ হয় যে বমি চলে আসে।
স্থানীয়দের দাবি, পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুত কার্যকর ও পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সোনাতলা পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার ভূমি জুয়েল মিয়া বলেন, অচিরেই ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু হবে। তখন পৌরসভার আবর্জনা আর এসব জায়গায় ফেলা হবে না, আবর্জনা গুলি নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়া হবে। তবে ডাম্পিং স্টেশনটি নির্মাণ করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে।
(বিএস/এসপি/আগস্ট ২৯, ২০২৬)
