স্টাফ রিপোর্টার : ‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক : চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মেলবে কোন পথে’- এ শ্লোগানসম্বলিত ব্যানার নিয়ে আজ শনিবার সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও মানববন্ধশেষে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক সংখ্যালঘু জনতা। মিছিলটি নানান শ্লোগানসহকারে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সংগঠনের অন্যতম সভাপতি মি. নির্মল রোজারিও বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। আর তা পরিচালনা করেন যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা।

এতে বক্তব্য রাখেন- কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, মিলন কান্তি দত্ত, ডিএন চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জয়ন্তী রায়, পদ্মাবতী দেবী, এ্যাড. অপূর্ব ভট্টাচার্য, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দিপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস, দিপংকর চন্দ্র শীল পমুখ নেতৃবৃন্দ।

তাঁরা বলেন, একটি বিশেষচক্র তাদের হীন উদ্দেশ্য ও স্বার্থ চরিতার্থের জন্যে রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে বলেই আমাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য কিংবা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। হত্যাকণ্ডের ব্যাপারে পুলিশের বয়ান বিশ্বাসযোগ্য নয়। নেতৃবৃন্দ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অনতিবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সংসদে বিবৃতি দানের পাশাপাশি এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিদানের দাবি জানিয়েছেন। রংপুরের হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নয় দেশব্যাপী সংখ্যালঘু জনমনে আতংক সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করছে। শুধু তা-ই নয়, এ ঘটনা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্বের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে পূর্বের মতই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলমান রয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে পত্র-পত্রিকা হতে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সারা দেশে ৪১টি (আংশিক) সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে হত্যা ৬টি, ধর্ষণ ২টি; মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ১০টি, ধর্ম অবমাননার দায়ে গ্রেফতার ২ জন; আদিবাসীদের উপর হামলার ঘটনা ৫টি; বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ১০টি, জোরপূর্বক জমি দখলের ঘটনা ২টি ও অন্যান্য ৪টি।

(পিআর/এসপি/আগস্ট ২৯, ২০২৬)