স্টাফ রিপোর্টার : মাগুরার শিশু আছিয়া আক্তার (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বহাল রাখা হয়েছে আসামির এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশও।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নৃশংসতার শিকার হয় শিশু আছিয়া। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ (৪৭) শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছিয়ার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ চার্জশিট জমা দেওয়ার পর, মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন।

দ্রুততম সময়ে (মাত্র ১৩ কার্যদিবসে) বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় অপর তিন আসামি- সজীব শেখ, তার ছোট ভাই এবং জাহেদা বেগমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতের ওই রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামি হিটু শেখও তার সাজা মওকুফের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির পূর্বশর্ত হিসেবে হাইকোর্টের নির্দেশনায় সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) মামলার যাবতীয় নথিপত্র বা পেপারবুক তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। জুন মাসে পেপারবুক হাইকোর্টে পৌঁছানোর পর দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়। অবশেষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজাই হাইকোর্টে চূড়ান্তভাবে বহাল রইল।

(ওএস/এএস/আগস্ট ৩১, ২০২৬)