গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেরাইদারচালা গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জমি বিক্রেতার সন্তানদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আশজাদ রসুল সিরাজী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আশজাদ রসুল সিরাজী গাজীপুরের শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, তাঁর দাদা মৃত গোলাম রসুল সিরাজী কেওয়া মৌজার সাবেক এসএ খতিয়ান নম্বর ৭২৮ এবং বর্তমান খতিয়ান নম্বর ৭৬-এ থাকা মোট ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। ওই জমি নিয়ে বর্তমানে বিরোধ চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশজাদ রসুল সিরাজীর দাদা গোলাম রসুল সিরাজী ৭৮৮৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে রেকর্ডীয় মালিক এহিয়ার কাছ থেকে ২৬ মে ১৯৭৫ সালে সাব-কাওলা দলিলমূলে ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। এরপর থেকে তাঁরা ওই জমিতে ফসলাদি উৎপাদনসহ ভোগদখলে ছিলেন বলে দাবি করেন আশজাদ।

তিনি বলেন, তাঁর বাবা সরকারি চাকরি করায় এবং পরিবারের পড়ালেখার কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন গাজীপুরের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে বসবাস করতেন। এ কারণে এলাকার বাইরে থাকায় জমিটির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই সুযোগে জালাল গং আগে বিক্রি করা জমি পুনরায় অবৈধভাবে দলিল করে নিজেদের বলে দাবি করছেন বলে তাঁর অভিযোগ।

আশজাদ রসুল সিরাজীর অভিযোগ, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ওই জমিতে যেতে পারেননি। তাঁর দাবি, জালাল আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। জমিতে গেলে জালাল গং তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিতেন।

তিনি আরও বলেন, প্রায় তিন মাস আগে জমিতে গেলে তাঁকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি গত ১১ জুলাই শ্রীপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর জালাল গংকে থানায় ডাকা হলে তাঁরা গত ৭ আগস্ট থানায় উপস্থিত হন। সেখানে তাঁরা আশজাদের দাবিকৃত দলিলকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে দলিল সঠিক হলে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানান। পরে দলিলটি সঠিক কি না, তা অনুসন্ধানের জন্য তাঁরা থানায় ১০ দিনের সময় নেন।

আশজাদের ভাষ্য, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর গত ৩০ আগস্ট সকালে তিনি জমিতে গেলে জালাল গং জমি বুঝিয়ে দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।

ভুক্তভুগী আরও জানান, তিনি তাঁর ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে চান। এ জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জালালের স্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুনেছি, আমার শ্বশুর তাঁদের কাছে জমি বিক্রি করছেন। আমাদেরও জমির কাগজ আছে। আমার কাছে কাগজ নেই, আমার জামাইয়ের কাছে আছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেক দিন থেকেই শুনে আসছি, রাজুরা জমি পাইবো। দলিল যার, জমি তার। রাজুর দলিল সঠিক থাকলে জমি বুঝাইয়া দেওয়া উচিত।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বলেন, ‘রাজুরা জমি পাইবো, তাগো জমি তাগরে বুঝাইয়া দেওয়া উচিত।’

বেলাল আহম্মেদ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা বহু আগে থেকেই জানি, রাজুর দাদার কাছে এহিয়া জমি বিক্রি করছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, ‘এলাকার সবাই জানে রাজুর দাদার জমি আছে। তাঁদের জমি তাঁদের বুঝাইয়া দেওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘এক পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

(এএস/এসপি/আগস্ট ৩১, ২০২৬)