আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছেন তিনি।

তাদের বিচারের দাবিও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

রবিবার রাতে ফক্স নিউজের ‘সানডে নাইট ইন আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে কথা বলেন ট্রাম্প।
সেখানে তিনি বলেন, ইরান যে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক, এ কথা বিশ্ব বহুবার শুনেছে। তার মতে, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দেশটিকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে সোমবার স্থানীয় সময় ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামরিক সক্ষমতার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে কার্যত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান সরকার বিক্ষোভ দমনের নামে এক লাখের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, ইরান সরকার সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বেতন দিতে পারছে না। একই সঙ্গে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে ‘পুরোপুরি বিশৃঙ্খল’। তার দাবি, দেশটির বর্তমান নেতাদের নিজেদের দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার সক্ষমতা নেই।

ইরানের সরকার নিজেদের জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে অপপ্রচার ও শক্তি প্রয়োগের ওপর নির্ভর করছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তার পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের হাতে এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ছড়ানো ‘ভুয়া খবর’ এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার মানসিকতা রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতৃত্বকে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আল মিনহাদ ঘাঁটিতে থাকা হেলিকপ্টার ও সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে এই অভিযান শুরু হয় বলে জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, আল মিনহাদ ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার ও সেনাদের লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ড্রোন পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬)