ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে মেহেদী হাসান (১৭) নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার ভোরে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লালপুরে তার মৃত্যু হয়।

নিহত মেহেদী হাসান উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলামপাড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে। সে পেশায় অটোরিকশাচালক ছিল।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদী হাসানকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

নিহতের বাবা আনিছুর রহমান বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করে জানানো হয়, আমার ছেলে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখি, তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় বেডে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোরে কেউ তাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে রেখে গেছে।’

তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লালপুরে মেহেদীর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আনিছুর রহমান আরও বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে বা কেন করেছে, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ সাবিয়া মরিয়ম বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদী হাসানকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, বুধবার ভোরে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদী হাসানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে যায়। পরে রাজশাহী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(এসকেকে/এসপি/সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬)