জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চালক-শ্রমিকের নিরাপত্তা দাবি
রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরে রাজীব পরিবহনের দুটি বাস জনরোষের কবলে ভাংচুরের ঘটনায় জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। মহাসড়কে চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবি তুলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
২ সেপ্টেম্বর রাতে জামালপুর আন্ত জেলা বাস টার্মিনালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- ২ সেপ্টেম্বর সকালে সদর উপজেলার নান্দিনায় একদল লোকের অতর্কিত হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজীব পরিবহনের দুটি বাস। এ সময় বাসের চালক ও সহযোগীদের মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি। এতে মহাসড়কে চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি দেখ দিয়েছে। তাই সড়কে নিরাপত্তা জোরদার এবং ভাংচুরে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
স্থানীয়রা জানায়, বেপরোয়া গতি ও ঘনঘন দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য রাজিব বাস সার্ভিস জামালপুরে খুবই কুখ্যাত। এই বাস জামালপুরের অংশেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। হেলপার দিয়ে বাস চালনায় এই দুর্ঘটনায় ঘটছে বেশি। নাান্দিনা বাজারে এমনিতেই জ্যাম থাকে সবসময়। এই বাস এখানে এসে থেমে থাকে, যাত্রী উঠায় এবং বেপরোয়া গতিতে চলে যায়। এতে জনসাধারণের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটায় অহরহ। ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা ঈদগাহ মাঠ এলাকায় জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী বেপরোয়া গতির রাজিব পরিবহনের একটি বাস বিপরীত দিক (গোপালপুর বাজার) থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে (ইজিবাইক) মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত হয় এবং আহত হয় অন্তত ২০ জন যাত্রী। এছাড়া গত কয়েক মাসে রাজিব বাস সার্ভিসের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান অন্যান্য সার্ভিসের তুলনায় অনেক বেশি।
বেপরোয়া গতি ও দুর্ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনায় রাজিব বাস সার্ভিস বন্ধের দাবি তোলে একদল লোক। সেখানে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। এছাড়া রাজিব সার্ভিসের দুটি বাস ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
ক্ষতিগ্রস্ত রাজীব পরিবহনের চালক মিলন আহমেদ জানান, নান্দিনা বাজারে তুচ্ছ ঘটনায় অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়েছে তাদের ওপর। মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে দুটি বাস। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না তারা।
এ বিষয়ে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, রাজিব পরিবহনের জামালপুর ও ঢাকাগামী দুটি বাসে হামলা-ভাংচুরের পর চালক ও শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
একই সঙ্গে তারা রাজিব বাসে হামলা, ভাঙচুর, শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও টাকা ছিনিয়ে নেবার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।
(আরআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬)
