আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা বন্ধ করলেই ইউক্রেন যুদ্ধ থেমে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের সমাধান তেল কেনাবেচা বন্ধ করা নয়; এর জন্য প্রয়োজন সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে কে তেল কিনছে বা কিনছে না, কিংবা কে অ্যালুমিনা, খনিজ, ধাতু বা সার কিনছে-এসবের কারণে পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের সমাধান হবে না।

সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধের অবসান সম্ভব।

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর।

তিনি বলেন, বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত কঠিন, তখন ১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও বিবেচনায় নিতে হবে। ইউক্রেনের এ বিষয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং ভারত সেটিকে সম্মান করে।

একইভাবে ভারতের অবস্থানকেও অন্যদের সম্মান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে থাকা দেশগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যে জয়শঙ্করের এই মন্তব্য এলো। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করলে দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান কমবে। গত মাসে মার্কিন সিনেট এমন একটি দ্বিদলীয় বিলও পাস করেছে, যাতে রুশ তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা ভারত ও চীনসহ দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।

রাশিয়া বর্তমানে ভারতের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। তবে আগস্টে রুশ তেল আমদানি জুন ও জুলাইয়ের রেকর্ড মাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার আগে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেল থেকে সরে গেলে ভারত কম দামে পাওয়া রুশ অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে।

ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে রাশিয়া থেকে। কেপলার তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা দেশটির মোট তেল আমদানির ৪০ শতাংশের বেশি। তবে জুন ও জুলাইয়ে এই পরিমাণ ছিল প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়াকে এশিয়ার ভারত ও চীনের মতো ক্রেতাদের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। ভারতীয় শোধনাগারগুলোর রুশ তেলের চাহিদা পশ্চিমা জাহাজ, বিমা ও আর্থিক সেবায় নানা বিধিনিষেধের মধ্যেও রাশিয়ার তেল রপ্তানি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬)