‘উত্তম কুমার শুধু মহানায়ক নন, বাঙালির মনের নায়ক’
বিনোদন ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারকে ঘিরে বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসা যেন সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে গেলেও তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও পর্দার উপস্থিতির আবেদন আজও অমলিন।
মহানায়কের জন্মশতবর্ষে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই ভালোবাসার কথাই আবেগঘন ভাষায় তুলে ধরলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উত্তম কুমারকে সত্যিকার অর্থেই একজন ‘আইকন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জয়া।
তার মতে, ‘আইকন’ শব্দটির যদি কোনো যথার্থ বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজতে হয়, সেটি হতে পারে উত্তম কুমারের নাম।
জয়া লেখেন, ‘আইকন’ শব্দটির যদি কোনো সার্থক বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজতে হয়, তবে সেই শব্দ বা নামটি অবশ্যই উত্তম কুমার।
একশ বছর পরেও বাংলা সিনেমায় তার মতো উজ্জ্বল সর্বগ্রাসী উপস্থিতি নজিরবিহীন।’
উত্তমকুমারকে কেবল অভিনেতা কিংবা নায়ক হিসেবে দেখেন না জয়া।
তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে একজন শিল্পীর বহুমাত্রিক সত্তার অনন্য সমন্বয় দেখতে পান এই অভিনেত্রী।
জয়ার ভাষায়, ‘একজন শিল্পীর যে বহুমাত্রিক সত্তা, তারই এক অনন্য সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বে। পর্দায় তার অভিনয় যেমন দর্শককে মুগ্ধ করেছে, পর্দার বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক অভিঘাত।’
মহানায়কের প্রভাবকে কেবল জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না বলেও মনে করেন জয়া। তার মতে, জনপ্রিয়তা উত্তম কুমারকে মহানায়ক করেছে ঠিকই, কিন্তু তার পরিচয়ের ব্যাপ্তি আরও অনেক বেশি।
তিনি লেখেন, ‘জনপ্রিয়তা তাকে মহানায়ক করেছে; কিন্তু শুধু জনপ্রিয়তা তার পরিচয়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়। তিনি বাঙালির মনের নায়ক; এমন এক প্রতীক, যার সঙ্গে বাঙালির পুরুষত্ব, ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসের একটি বিশেষ আবেগ আজও জড়িয়ে আছে।’
প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে বাংলা সিনেমার ভাষা ও নির্মাণের ধরন। কিন্তু এসব পরিবর্তনের মধ্যেও উত্তমকুমারের প্রভাব যে এতটুকু ম্লান হয়নি, সেটিই তুলে ধরেছেন জয়া।
তার কথায়, ‘সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বাংলা সিনেমার ভাষাও বদলেছে। কিন্তু উত্তমকুমার নির্মিত সেই মিথ এখনও অমলিন।’
মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে জয়া আহসান শেষ করেছেন আরও আবেগঘন কথায়। তার ভাষায়, ‘ভালোবাসা ও নিরন্তর মুগ্ধতার এই ঋণ কখনও ফুরোনোর নয়।’
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬)
