স্টাফ রিপোর্টার : মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) ব্যবস্থায় বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন নীতিতে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের সাধারণ পর্যটন ও সামাজিক সফরের ক্ষেত্রে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

এখন নির্দিষ্ট চার ধরনের ভ্রমণ উদ্দেশ্যের সঙ্গে সফর মিললেই কেবল এ ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সংশোধিত নীতি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা আর সব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। ২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। ফলে নতুন নির্দেশিকার আওতায় বাংলাদেশিরাও পড়ছেন। সংশোধিত ভিসা কাঠামোয় বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

সংশোধিত নীতিতে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ মূলত চার ধরনের ভ্রমণের জন্য রাখা হয়েছে। এগুলো হলো ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ পর্যটন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, চিকিৎসা এবং বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটন।

অর্থাৎ কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত মালয়েশিয়ায় যাতায়াত করলে, চিকিৎসার প্রয়োজনে একাধিকবার আসা-যাওয়া করতে হলে, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ ভ্রমণে অংশ নিলে কিংবা বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া গেলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে সাধারণ ছুটি কাটানো, বেড়াতে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা সামাজিক সফরের মতো উদ্দেশ্য যদি নির্ধারিত চার শ্রেণির মধ্যে না পড়ে, তাহলে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার পরিবর্তে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিয়মিত পর্যটকদের ওপর। আগে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদে একাধিকবার মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ ছিল। এখন সাধারণ পর্যটনের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা আর আগের মতো থাকছে না।

ফলে বাংলাদেশ থেকে কোনো পর্যটক মালয়েশিয়ায় এসে দেশ ছাড়ার পর আবার সাধারণ পর্যটন উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে চাইলে নতুন করে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। এতে নিয়মিত যাতায়াতকারী পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়ায় বাড়তি ঝামেলা তৈরি হতে পারে।

মালয়েশিয়ার ই-ভিসা ব্যবস্থার আগের নির্দেশনায় ভিসা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত ছিল। প্রতিটি প্রবেশে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের সুযোগও ছিল। নতুন নীতিতে সেই বিস্তৃত সুবিধা সীমিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন নীতিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসা প্রয়োজন এবং সংশোধিত মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা কাঠামোয় ভ্রমণের উদ্দেশ্যকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ শুধু বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই আগের মতো মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য নির্ধারিত চার শ্রেণির কোনো একটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

নিয়মিত ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা নির্দিষ্ট পর্যটন কার্যক্রমে মালয়েশিয়ায় যাতায়াতকারী বাংলাদেশিদের জন্য এ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হলেও সাধারণ পর্যটকদের ক্ষেত্রে এটি বাড়তি ভোগান্তি ও খরচের কারণ হতে পারে। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মালয়েশিয়া মূলত মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসাকে সাধারণ পর্যটন সুবিধা থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

একদিকে সাধারণ পর্যটনের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে, অন্যদিকে ব্যবসা, চিকিৎসা, ক্রুজ এবং বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখন আবেদনকারীর জাতীয়তার পাশাপাশি ভ্রমণের উদ্দেশ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এতে স্পষ্ট হচ্ছে, মালয়েশিয়া একাধিকবার প্রবেশের ভিসাকে এখন আর সাধারণ পর্যটনের জন্য নির্বিচারে দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট খাত ও প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।

নতুন মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা নীতি নিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট এই পরিবর্তন মূলত ভিজিট বা সামাজিক ভ্রমণসংক্রান্ত ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কিংবা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট, সাময়িক কর্মসংস্থানসংক্রান্ত ভিজিট পাস কিংবা কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার সঙ্গে পর্যটনভিত্তিক মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার এই পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নেই। কর্মসংস্থান ও পর্যটন ভিসা পৃথক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়।

ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি মালয়েশিয়া দেশটির অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নতুন ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।

সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ার নতুন মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন একাধিকবার প্রবেশের ভিসা সাধারণ পর্যটকদের জন্য আগের মতো সহজলভ্য নয়। বরং কোন দেশের নাগরিক এবং কী উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন এই দুই বিষয় বিবেচনা করেই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার যোগ্যতা নির্ধারিত হবে।

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এর সরাসরি অর্থ হলো সাধারণ বেড়ানো বা সামাজিক সফরের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা নিতে হবে। আর ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ কিংবা বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটনের মতো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকলে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ থাকবে।

(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬)