‘বিনিয়োগকারীদের আর ঘুরতে হবে না’
স্টাফ রিপোর্টার : দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়ে এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আদলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ নামে একটি আইন পাস হয়েছে।
এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন ১০ জায়গায় ঘুরে বেড়াতে না হয় এবং এক পয়েন্ট থেকেই প্রয়োজনীয় সব সুবিধা পান, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকায় ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ (এনআরবি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিজিটাল সেবাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
যাতে কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ অনলাইনে সহজে সম্পন্ন করা যায়।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও স্বাচ্ছন্দ্যে দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।
বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার অর্থনৈতিক কূটনীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত পেয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। ব্যাংকিং খাতকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু বিদেশিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেই হবে না, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
নাগরিকসেবা সহজ করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, একজন নাগরিকের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ছড়িয়ে থাকা তথ্য সমন্বয় করে একটি কনসোলিডেটেড ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।
এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় দুই লাখ প্রবাসী কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বদরবারে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের গল্প তুলে ধরার সুযোগ এবার পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অবৈধ অভিবাসন ও দালালচক্রের কারণে অনেক বাংলাদেশি বিদেশে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তিকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈধ পথে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অভিবাসনসংক্রান্ত একটি বিশেষ উইং চালু করা হয়েছে। এটি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
বাংলাদেশকে আরও ভ্রমণ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থনীতির বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও স্থানীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পাটকে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল ফাইবার হিসেবে পাট ও পাটজাত পণ্যকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় সরকার।
সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু সমস্যার দেশ নয়, বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ। পর্যটন, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সুযোগ রয়েছে দেশে।
তিনি বলেন, সরকার একা সব পরিবর্তন করতে পারবে না। বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে তুলে ধরতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬)
