রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় অভিযান চালিয়ে বাল্কহেডসহ চালকদের আটক নীলডুমুর ১৭ বিজিবি সদস্যরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের জরিমানা করা হয়।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খোলপাটুয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের সময় বাল্কহেডসহ চালকদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের মৃত সাত্তার গাজীর ছেলে জাহাঙ্গীর গাজী (৩০) ।

শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা পরিশোধের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে। দিনের বেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও রাতের আঁধারে বিভিন্ন নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, খোলপাটুয়া নদীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকা ও বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীর তীব্র স্রোতের সময় এর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, বিজিবি মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে বাল্কহেড আটক করলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন শুরু হয়। ফলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শ্যামনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাশেদ হোসাইন বলেন, আটককৃত ব্যক্তিদের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

(আরকে/এএস/সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬)