‘মেক্সিকো কারও উপনিবেশ হবে না’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেক্সিকোর ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার অধীনে দেখিয়ে একটি বিতর্কিত মানচিত্র পোস্ট করার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “মেক্সিকো কখনো কোনো বিদেশি শক্তির উপনিবেশ বা প্রটেক্টরেট (সংরক্ষিত রাজ্য) নয় এবং কখনো হবেও না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে শেইনবাউম লেখেন, “আমাদের মাতৃভূমির এই মাসে আমরা আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি যে, মেক্সিকো কোনো বিদেশি দেশের প্রটেক্টরেট নয়। অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলছি- আমরা একটি মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।”
ঘটনার সূত্রপাত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই শেয়ার করা ওই মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে মার্কিন পতাকার আদলে চিত্রিত করা হয়।
নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং অভিবাসন নিয়ে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই শেইনবাউমের এই মন্তব্য এলো।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যল’- এ এই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডাসহ আরও কিছু ভূখণ্ডকে মার্কিন পতাকার অধীনে দেখানো হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যল’- এ এই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডাসহ আরও কিছু ভূখণ্ডকে মার্কিন পতাকার অধীনে দেখানো হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের মন্তব্য বা পদক্ষেপের জবাবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বারবার জাতীয় সার্বভৌমত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, আবার একইসঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতাপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বাজার রাখার সরকারি ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেছেন।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি ঘটে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউ মেক্সিকো’ অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাবের পর। ট্রাম্প একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন যেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে দিয়ে সেখানে ‘আমেরিকা’ লেখা ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগেও বিভিন্ন ভৌগলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উসকে দিয়েছেন, যার মধ্যে মেক্সিকো উপসাগরকে তার প্রশাসনের ‘আমেরিকা উপসাগর’ হিসেবে ব্যবহার করার ঘটনাও রয়েছে।
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ১৪৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ গাঢ়। দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির মাধ্যমেও গভীরভাবে যুক্ত, যা তাদের বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালনা করে।
শেইনবাউম ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার পাশাপাশি মেক্সিকোর স্বাধীনতা রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন; ট্রাম্পের প্রশাসন মাদকের অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জোরদার করতে মেক্সিকোর ওপর ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছে।
মেক্সিকো সরকার অবশ্য স্পষ্টভাবে বলে আসছে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অবশ্যই পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
(ওএস/এএস/সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬)
