নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, নারীসহ আহত ৭
রূপক মুখার্জি, নড়াইল : নড়াইলে লোহাগড়ার মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে মিরচাঁন সরদার নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় দু'পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালের দিকে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ খুনের ঘটনা ঘটে।
নিহত মিরচাঁন সরদার (৩৭) মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজমল মুন্সি ও ইউপি সদস্য কামাল হোসেন সমর্থিত লোকজনদের সাথে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্যা সমর্থিত লোকজনদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এই বিরোধের জের ধরে সকাল ১১টার দিকে শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্লার নেতৃত্বে মিল্লাত হোসেন, লিয়াকত সরদার, জসিম উদ্দিন, রবিউল শেখসহ অন্তত ৫০ জনের একদল দুর্বৃত্ত মিরচাঁন সরদারকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
স্থানীয়রা আহত মিরচাঁনকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পথিমধ্যে মাদারীপুর জেলার পাঁচচর এলাকায় পৌঁছালে মিরচাঁন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
সংঘর্ষে সালাম মুন্সী, খাঁজা সরদার, সিয়ামিন সরদার, সারফিনা বেগমসহ উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের লোহাগড়া ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য শহীদুল মোল্যার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ওই গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর চালিয়ে মালামাল লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুর রহমান জানান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।
(আরএম/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬)
