বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলায় ৩০০ টাকা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাকিল মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে মারধরের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় মামা-ভাগ্নে সহ দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের আট দিন পেরিয়ে গেলেও এজাহার ভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের দক্ষিণ বয়ড়া গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে ফয়সাল আহমেদ ওরফে ফুল বাবুর বাড়ি থেকে ঘটনার আগে শুক্রবার রাতে ৩০০ টাকা হারিয়ে যায়। টাকা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফুল বাবু ও তাঁর ভাগ্নে মৃত রাশেদের ছেলে হানিফ মিয়া শাকিলকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে মারধরের কারণে শাকিল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় নিহত শাকিলের ভাই পারভেজ বাদী হয়ে গত ৩১শে আগস্ট সোনাতলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ফয়সাল আহমেদ ওরফে ফুল বাবু এবং তাঁর ভাগ্নে হানিফ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের স্বজন পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, মামলা তুলে নিতে তাঁকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মামলা দায়েরের আট দিন পার হলেও আসামিদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

নিহত শাকিলের মামা দুদু মিয়া বলেন, মামলার আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার চাই।

প্রতিবেশী টিটু মিয়া সহ স্থানীয় কয়েকজনও একই দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, শাকিল সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন এবং এলাকা বাসীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

এদিকে সরেজমিনে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির প্রধান দরজা ও ঘরের দরজাগুলো তালাবদ্ধ। কয়েকটি জানালা খোলা ছিল এবং ঘরের ভেতরে আলো জ্বলতে দেখা যায়। অপর আসামি ফুল বাবুর বাড়িতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত হানিফ মিয়া ও ফুল বাবুর বিরুদ্ধে এলাকায় নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেল সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, দক্ষিণ বয়ড়া গ্রামের ৩০০ টাকা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

(বিএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬)