শিশুদের জন্য আর্থিক শিক্ষায় দেশের প্রথম পাপেট শো চালু করল প্রাইম ব্যাংক
স্টাফ রিপোর্টার : শিশুদের কাছে অর্থ ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণাগুলো সহজ ও আনন্দদায়কভাবে পৌঁছে দিতে পুতুলনাচ বা পাপেট শো ব্যবহার করে দেশের প্রথম আর্থিক সাক্ষরতা উদ্যোগ চালু করেছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। গল্প বলার ঢঙে, বিনোদনের মোড়কে এবং বয়স উপযোগী উপস্থাপনায় শিশুদের কাছে অর্থ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ রাজধানীর খিলক্ষেতে প্রাইম টাওয়ারের মেরিনা ইয়াসমিন চৌধুরী হল অব অ্যাসপিরেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়। এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের ৬০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে ইউনেসকো নির্ধারিত “মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা” প্রতিপাদ্যের আওতায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. ইকবাল মহসীন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মো. ইকবাল মহসীন বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কোনো চ্যারিটি নয়, বরং অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার একটি দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে পাপেট-শো এর মাধ্যমে আর্থিক সাক্ষরতার প্রচলন ঘটিয়ে প্রাইম ব্যাংক একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তিনি প্রাইম ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং এমপাওয়ারিং ইয়ুথ উদ্যোগের প্রশংসা করেন, বিশেষ করে দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শিক্ষা ও সম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।
চরিত্রনির্ভর ও সহজবোধ্য গল্পের মাধ্যমে এই পাপেট শোতে সঞ্চয়, দায়িত্বশীল ব্যয়, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকিংয়ের মতো মৌলিক বিষয়ে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য হলো, আর্থিক সাক্ষরতাকে অতিরিক্ত কোনো পাঠ হিসেবে না দেখিয়ে শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে তুলে ধরা।
এই উদ্যোগের আওতায় প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার বিকেল ৫টায় প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে পাপেট শোগুলো সম্প্রচারিত হবে। প্রতিটি পর্বে বয়স উপযোগী আর্থিক ধারণা সহজ, আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক উপায়ে উপস্থাপন করা হবে, যাতে শিশু ও অভিভাবক একসঙ্গে শিখতে পারেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. নাজিম এ. চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি বলেন, অর্থবহ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য আর্থিক সাক্ষরতা একটি অপরিহার্য ভিত্তি। শুধু ব্যাংকিং সেবার প্রবেশাধিকার যথেষ্ট নয়; সচেতনভাবে ও দায়িত্বশীলভাবে সেসব সেবা ব্যবহারের জন্য মানুষের প্রয়োজন জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা।
তিনি আরও বলেন, শিশু ও তরুণদের কাছে আর্থিক সাক্ষরতাকে আরও সহজলভ্য করতে প্রাইম ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্টুডেন্ট ব্যাংকিং, ক্যাম্পাসভিত্তিক আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি এবং এই পাপেট শোর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সহজ ও বাস্তবসম্মতভাবে আর্থিক ধারণা তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়, দায়িত্বশীল ব্যয় ও অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শিশুদের বোঝাতে পারলে একটি আর্থিকভাবে সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, আর্থিক শিক্ষা হওয়া উচিত সহজবোধ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এম এম মাহবুব হাসান। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন এসইভিপি ও লায়াবিলিটি অ্যান্ড উইমেন ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান শায়লা আবেদীন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান নাবিলা খালিদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসির এসইভিপি ও ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের প্রধান মামুর আহমেদ; বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক দেবাশীষ রায়, লাইট অব হোপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সিইও ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া এবং টোগুমোগু প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আরেফিন মোমেল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রতিশ্রুতির অংশ এই উদ্যোগ। প্রাইম ব্যাংক মনে করে, শুধু আর্থিক সেবার প্রবেশাধিকারই যথেষ্ট নয়; সেই সেবা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা থাকলেই তা প্রকৃত অর্থে অর্থবহ হয়ে ওঠে।
প্রাইম ব্যাংক বিশ্বাস করে, আর্থিক সাক্ষরতার সূচনা হওয়া উচিত শৈশব থেকেই। বিনোদনমূলক মাধ্যমে শিশুদের সঞ্চয়ের সুস্থ অভ্যাস, দায়িত্বশীল অর্থ ব্যয় এবং সচেতন আর্থিক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দিয়ে ব্যাংকটি এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা কেবল আর্থিকভাবে সচেতনই নয়, বরং ক্রমবর্ধমান জটিল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের জন্যও প্রস্তুত।
(পিআর/এসপি/সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬)
